রংপুর রাইডার্সের দৃঢ়তা আর অভিজ্ঞতার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানল চট্টগ্রাম রয়্যালস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল রংপুর।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুর ১৮.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। ইনিংসের শেষদিকে চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে অপরাজিত ৩০ রান করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
১৯ বলের এই ইনিংসেই মূলত নিশ্চিত হয় রংপুরের জয়, হাতে থাকে আরও ৭ বল।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ১৬৯ রান। দলের হয়ে ইনিংস গুছিয়ে খেলেন অ্যাডাম রসিংটন। ৪১ বলে ৫৮ রানের সাবলীল ইনিংস খেলেন তিনি।শেষদিকে হাসান নওয়াজ ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন, ৩টি ছক্কাসহ ৩৮ বলে করেন ৪৬ রান। তবে মাঝেমধ্যে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ গড়া হয়নি চট্টগ্রামের।
রংপুরের বোলাররা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আঘাত হানেন। দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে ২ উইকেটে ৩২ রান দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
মাঝের ওভারে চট্টগ্রামের ছন্দ ভেঙে দেন আকিফ জাভেদ, তার শিকার ২ উইকেট, খরচ ২৯ রান।
জবাবে রংপুরের শুরুটা ছিল বিধ্বংসী। কাইল মেয়ার্স একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পাওয়ার প্লেতেই। মাত্র ২৫ বলে ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৫০ রান করে চট্টগ্রামের বোলারদের ওপর চড়াও হন এই ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ নেয় রংপুর।
মেয়ার্সের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। শরিফুল ইসলামের তিন উইকেটের স্পেলে কিছুটা ম্যাচে ফেরে চট্টগ্রাম। ডেভিড মালান (৩০) ও তাওহীদ হৃদয় (১৭) চেষ্টা করেন ইনিংস ধরে রাখার, কিন্তু শেষের ওভারগুলোতে সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।
সেই চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন মাহমুদউল্লাহ। প্রয়োজনের সময় বাউন্ডারি আদায় করে নেন তিনি, অন্য প্রান্তে অধিনায়ক নুরুল হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ে ম্যাচ হাতছাড়া হতে দেননি। শেষ পর্যন্ত আরও একবার রান তাড়ায় সফল হয় রংপুর রাইডার্স, বজায় রাখে দারুণ জয়ের ধারা এবং উঠে যায় টেবিলের শীর্ষে।