News Headline :
নরসিংদীতে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসের কারখানা ঘুরে দেখলেন দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় কী এমন শিখেছিলেন নোলান! এখন তাঁর সিনেমার আয় ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে বড় নিয়োগ, পদ ১৯৭ জুলাইয়েই ভেরিফিকেশন রিপোর্ট, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগে কিছুটা অগ্রগতি ঢকঢক করে নয়, ধীরে পানি পান করুন ৯ বছর পূর্তিতে ‘উডহাউস গ্রিল’দিচ্ছে ২২ শতাংশ ছাড় প্রেম ভাঙতেই অভিনেতাকে ‘জুতাপেটা’ করলেন অভিনেত্রী! বিয়ে করলেন বিশ্বখ্যাত ইউটিউবার মিস্টার বিস্ট ১৮ বছর পর একক অ্যালবাম নিয়ে ফিরছেন আতিফ আসলাম রাতে হোটেলে একা দেখা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল অভিনেত্রীকে!
সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার: কারা আছেন আইএফএফএইচএসের তালিকায়

সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার: কারা আছেন আইএফএফএইচএসের তালিকায়

ফুটবলে সর্বকালের সেরা কে—এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নেই। এ নিয়ে বিতর্কও চলে আসছে যুগের পর যুগ। পেলে, ম্যারাডোনা, মেসি নাকি রোনালদো? যুক্তি, তর্ক ও বিশ্লেষণের পর বিশ্লেষণ করেও শেষ পর্যন্ত এই প্রশ্নের উত্তরে সর্বসম্মতিক্রমে কাউকে বেছে নেওয়ার উপায় নেই। পাল্টা যুক্তি ওঠেই।

যেমন ধরুন, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্টরি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস (আইএফএফএইচএস) তাদের ওয়েবসাইটে সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করেছে, লিওনেল মেসি যেখানে সবার ওপরে। এই তালিকা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক। পেলে–ডিয়েগো ম্যারাডোনার ভক্তরা তো চুপ করে থাকবেন না। প্রতিবাদ জানাতে পারেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমর্থকেরাও।

সেই যুক্তি-তর্কে যাওয়ার আগে আইএফএফএইচএস সমন্ধে একটু জানাশোনারও দরকার আছে। জার্মানির কেমিস্ট ও খেলাধুলার ইতিহাসবিদ আলফ্রেড পোগে ১৯৮৪ সালে লাইপজিগে আইএফএফএইচএস প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলের পরিসংখ্যান, রেকর্ড ও ইতিহাস সংরক্ষণ করে এই সংস্থা। ফিফার সঙ্গে এই সংস্থার কোনো অধিভুক্তি নেই, তবে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ওয়েবসাইটে আইএফএফএইচএসের দেওয়া বিভিন্ন পুরস্কার ও রেকর্ডের স্বীকৃতি আছে। ২১১টির বেশি ফুটবল খেলা দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব রয়েছে আইএফএফএইচএসে। বার্ষিকভাবে বিভিন্ন পুরস্কারও দেয় এই সংস্থা—বিশ্বের সেরা রেফারি, ক্লাব কোচ, জাতীয় দল কোচ, গোলকিপার, প্লে–মেকার, টিম অব দ্য ইয়ার…।

আইএফএফএইচএস কীভাবে সর্বকালের সেরা ১০ ফুটবলার বেছে নিয়েছে, সেটা অবশ্য ব্যাখ্যা করেনি। তবে যেহেতু পরিসংখ্যান নিয়েই মূলত তাদের কাজকারবার, ধারণা করা যায়, পরিসংখ্যানই এখানে প্রধান বিবেচ্য ছিল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাও জানিয়েছে, আইএফএফএইচএস সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের এই তালিকা প্রস্তুত করেছে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও দলীয় পরিসংখ্যান ও অর্জনের নিরিখে।

শীর্ষে থাকা মেসির দলগত শিরোপা ৪৬টি। বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন ৩৫টি, পিএসজির হয়ে তিনটি, ইন্টার মায়ামির হয়ে দুটি ও ছয়টি শিরোপা জিতেছেন আর্জেন্টিনার হয়ে। এর বাইরে আছে আটটি ব্যালন ডি’অর, ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু, ফিফা বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল, কোপা আমেরিকা গোল্ডেন বল…। দলীয় ও ব্যক্তিগত ট্রফি বিচারে মেসিই ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল।

দ্বিতীয় পেলের শিরোপাসংখ্যা মেসির তুলনায় বেশ কম। মার্কা ২০২২ সালে পেলের মৃত্যুর পর প্রকাশ করা প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ক্যারিয়ারে ২৯টি শিরোপা জিতেছেন পেলে। তবে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির চেয়ে বেশি বিশ্বকাপ (তিনটি) কেউ জিততে পারেনি। পেলে যখন খেলতেন তখন ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপিয়ানদের দেওয়া হতো। তবে ব্যালন ডি’অর যারা দেয়, সেই ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী ২০১৫ তাদের এক বিশেষ সংস্করনে জানিয়েছিল, পেলে তাঁর ক্যারিয়ারে সাতবার ব্যালন ডি’অর পেতে পারতেন।

আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ও ’৮৬ বিশ্বকাপের মহানায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা তালিকায় তৃতীয়। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১১টি শিরোপা জিতেছেন কিংবদন্তি। শিরোপাসংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থানে ম্যারাডোনাকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্ভবত খেলাটিতে তাঁর প্রভাব। প্রায় একাই দেশকে বিশ্বকাপ জেতানো, একাই নাপোলির মতো ক্লাবকে বিশ্বসেরাদের কাতারে তুলে আনা—এসব অবদানের জন্যও ম্যারাডোনা অবিস্মরণীয়।

মার্কা জানিয়েছে, রোনালদোর চতুর্থ স্থান নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কারণ, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোই ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (৯৩৫)। দলগতভাবে শিরোপাও জিতেছেন ৩৫টি। এর ব্যাখ্যায় সম্ভবত উঠে আসবে বিশ্বকাপ জিততে না পারা। সর্বকালের সেরায় শীর্ষ তিনজনই বিশ্বকাপ জিতেছেন নিজ নিজ দেশের হয়ে, যেটা রোনালদো এখনো পারেননি। তবে পর্তুগালকে ইউরো জিতিয়ে ইউরোপসেরা হয়েছেন রোনালদো।

পাঁচে থাকা ইয়োহান ক্রুইফের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে তবে উল্টোভাবে। ‘টোটাল ফুটবল’ এর প্রতিভূ ডাচদের বিশ্বকাপ জেতাতে পারেননি কিন্তু আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে তাঁর প্রভাব ও অবদান অসামান্য। সত্তর দশকে আয়াক্সকে টানা তিনবার ইউরোপসেরা বানানো এবং ক্লাবটিকে বিশ্বসেরাদের কাতারে তুলে আনার পাশাপাশি ফুটবলের কৌশলেও অবিস্মরণীয় অবদান ’৭৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ক্রুইফের। ছয়ে থাকা রোনালদো নাজারিও ব্রাজিলের হয়ে দুবার বিশ্বকাপ জিতলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের পদক নেই তাঁর।

সপ্তম জিদান অবশ্য ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন রিয়ালের হয়ে। আটে থাকা ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, নবম আলফ্রেড ডি স্টেফানো ও দশম রোনালদিনিওর সাফল্যের চেয়ে প্রভাবটা বেশি বিবেচনা করা হয়েছে সম্ভবত। ‘কাইজার’খ্যাত বেকেনবাওয়ার তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। বায়ার্ন মিউনিখকেও এনে দিয়েছেন টানা তিনবার ইউরোসেরার মুকুট। তবে এসব সাফল্যের পাশাপাশি ফুটবলের রক্ষণভাগে ‘লিবেরো’ পজিশনে তাঁর বিপ্লব ঘটানোও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও স্পেনের হয়ে খেলা ডি স্টেফানোর আন্তর্জাতিক শিরোপা বলতে শুধু ১৯৪৭ কোপা আমেরিকা জয়। রিয়ালের হয়ে জিতেছেন টানা পাঁচবার ইউরোপিয়ান কাপ।

ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ ও বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী রোনালদিনিওর চেয়েও শিরোপা জয়ের সংখ্যায় এগিয়ে থাকা ফুটবলার আছেন। কিন্তু পরিসংখ্যানের একটি পাতায় রোনালদিনিও অনন্য। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে জিতেছেন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, কনফেডারেশনস কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ ও কোপা লিবার্তোদোরেস ও ব্যালন ডি’অর। মানে দেশের হয়ে বিশ্ব জয়ের মুকুটের পাশাপাশি মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা, আন্তমহাদেশীয় শিরোপা, ক্লাব ফুটবলে দুই মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা এবং ব্যক্তিগত সেরার শিরোপা জিতেছেন। এর বাইরে তাঁর আরেকটি প্রভাবও অনন্য। মাঠে রোনালদিনিও যে আনন্দ নিয়ে খেলেছেন এবং দর্শকদের যেভাবে আনন্দ দিয়েছেন সেটা অবিস্মরণীয়। বল পায়ে মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন ‘গাউচো’।

আইএফএফএইচএসের সর্বকালের সেরার এই তালিকায় আর্জেন্টাইন ও ব্রাজিলিয়ান তিনজন করে। জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল থেকে একজন করে ঠাঁই পেয়েছেন। বিশ্বকাপজয়ী আছেন সাতজন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS