যারা আপসে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এটা তাদের কাছে স্বাধীনতা মনে হয় না: নাহিদ

যারা আপসে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, এটা তাদের কাছে স্বাধীনতা মনে হয় না: নাহিদ

স্বৈরাচার শেখ হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিবাদের পতনকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেছেন, প্রথম স্বাধীনতা ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক চলছে।আমরা যারা গত ১৬ বছর নিপীড়িত-নির্যাতিত হয়েছি আমাদের কাছে এটা অবশ্যই স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট আমরা আসলে নতুন করে স্বাধীন হয়েছি। আর যাদের ব্যাংক ব্যালেন্স অক্ষুন্ন ছিল, যারা আপস করে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, তাদের কাছে হয়তো এটা স্বাধীনতা মনে হয় না। কারণ তারা সব সময় স্বাধীন ছিলেন। তাদের কাছে প্রথম স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লুটপাটের স্বাধীনতা।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাহিদ এসব কথা বলেন। ২০২১ সালের অগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিচারের দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপি।

গত ১৬ বছর দেশের জনগণ একটি ভয়াবহ যুগ ও সময় পার করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ১৬ বছরের নির্যাতিত পরিবার ও শক্তিগুলোর সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। কারণ এই ঐক্যের শক্তির মাধ্যমে আমরা আওয়ামী ফ্যাসিজমকে প্রতিহত করেছিলাম।

এ সময় ২০২১ সালের নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, আমরা রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে সে ঘটনার বিচার এবং যথাযথ মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছি। আমরা দাবি করছি, সে শহীদের তালিকা ও সংখ্যা প্রকাশ করা এবং তাদের হত্যার বিচার ও মূল্যায়নের বিষয়টি যেন সরকার আমলে নেয়।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সে সময়ের ফ্যাসিবাদী সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা। সে সময় নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। গত ১৫ বছরের আন্দোলনের মধ্যে মোদীবিরোধী আন্দোলনের তাৎপর্য অনেক বেশি। কারণ মোদীবিরোধী আন্দোলনে ফ্যাসিবাদীবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একই কাতারে নেমে আন্দোলন করেছিল। আমরা দেখেছি যে, সেই আন্দোলনেও পুলিশসহ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ নির্বিচারে সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ড চালায়। সেই হত্যাকাণ্ডে কতজন মানুষ মারা গেছেন সেই সংখ্যাটা আমরা এখনো নিরুপণ করতে পারিনি।

নাহিদ বলেন, কোথাও ১৭ জন, আবার কোথাও ১৪ জন; এই রকম নানা সংখ্যা আমরা জানতে পারি। আমাদের সেই সংখ্যাটা শনাক্ত করা প্রয়োজন। আজকের এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই ঘটনাটা জাতিকে স্মরণ করে দেওয়া। যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের যেন আমরা ভুলে না যাই। কারণ, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন ঘটনায় যারা নির্যাতিত হয়েছেন নিপীড়িত হয়েছেন তারাই কিন্তু এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছেন। তাদের সেই সংগ্রাম এবং নির্যাতিত হওয়ার মধ্য দিয়েই আমরা কিন্তু শেখ হাসিনাকে তাড়াতে সক্ষম হয়েছি। ফলে রাষ্ট্রের কাছে এটাই দাবি যে, সে শহীদদের যাতে আমরা যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারি।

আওয়ামী সরকার সব সময় ভারতের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তিনটি ভোট ডাকাতি করে সব বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়েও শেখ হাসিনা যে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেটার ন্যায্যতা প্রমাণ করেছে, তার মূল কারিগর ছিল ভারত। ভারতের সহায়তা নিয়েই শেখ হাসিনা তার ফ্যাসিজমকে এতদিন দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিল। আওয়ামী ফ্যাসিজম আসলে ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের একটা এক্সেটেশন (সম্প্রসারিত অংশ)। ভারতকে খুশি করা, একটা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি রাখাই শেখ হাসিনার মূলনীতি ছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রাষ্ট্রের যে জাতিগত মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্ন বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে যখন মোদীর আগমনকে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল, সে সময় শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশ এবং সন্ত্রাসী বাহিনী নিপীড়ন চালায়।

আলোচনা সভায় ২০২১ সালের মোদীবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের পরিবার ও আহতরাসহ এনসিপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS