মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ষষ্ঠ দিনে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিবেশী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ১৯তম দফার হামলা চালিয়েছে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি ও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, পশ্চিমা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর’ বেশ কিছু চৌকিতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুর্দিস্তানের স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সুলাইমানিয়াহ প্রদেশের অন্তত চারটি স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে। মূলত ‘কোমালা’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদর দপ্তর লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলো ইরানের অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করছিল।
ইরাকে অভিযানের পাশাপাশি ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সম্পদ লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, গ্যালিলি অঞ্চলে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব অন্তত তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের নিকটবর্তী এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কাতার সরকার।
এদিকে গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত অন্তত ১০৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ইসরায়েল ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের কোম ও ইসফাহানসহ বিভিন্ন শহরে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার ধ্বংসের দাবি করেছে।
রাজধানী তেহরানের পূর্ব অংশে মাঝরাত থেকে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও সেটির কম্পন অনুভূত হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রাণভয়ে তেহরানের বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ শহর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।বিশেষ করে যাদের শহরের বাইরে বাড়ি রয়েছে, তারা দ্রুত রাজধানী ত্যাগ করছেন। যারা যেতে পারছেন না, তারা চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত ১৫০টি শহরে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোট।