বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে ধীরগতির পেছনে প্রকল্পের ত্রুটিপূর্ণ দলিল, দক্ষ প্রকল্প পরিচালকের অভাব, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতাসহ ১৪টি কারণ চিহ্নিত করেছে সরকার। এসব সমস্যা দূর করে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোনায়েদ সাকি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান তিনি। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতির অন্যতম কারণ প্রকল্পের ত্রুটিপূর্ণ দলিল প্রণয়ন। এর সঙ্গে দক্ষ প্রকল্প পরিচালকের অভাব, দুর্বল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও তথ্যের অসঙ্গতিও বড় বাধা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধি এবং যথাযথ সমাপ্তি পরিকল্পনার অভাবও রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, গবেষণালব্ধ ফলাফল যথাযথভাবে কাজে না লাগানো, স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিংয়ের ঘাটতি, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেটের মধ্যে অসামঞ্জস্য, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা এবং একাধিক প্রকল্পের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয়ের ঘাটতিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পাশাপাশি ডিপিপি বা টিএপিপি প্রণয়নে দীর্ঘসূত্রিতা, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি এবং ফলাফলভিত্তিক পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন কাঠামোর সীমাবদ্ধতাও এডিপি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি জানান, এসব সমস্যা কাটিয়ে এডিপি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকল্প প্রস্তুতির মান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ও জোরদার করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে একই কর্মকর্তাকে ধারাবাহিকভাবে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্বে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা সভার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস, পরিধি পরিবর্তন কিংবা প্রকল্প চলমান রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে বলা হয়েছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়া প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ পর্যালোচনা করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।