৩য় জাতীয় মানবাধিকার অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন পরীক্ষা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির আয়োজনে ও বাংলাদেশে অবস্থিত সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় এই অলিম্পিয়াড হয়।
গত ১৪ আগস্ট সারা দেশের চারটি বিভাগে স্থানীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় বাছাই পর্ব। সারা দেশের প্রায় ১৩০০ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে এবং প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী বাছাই পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।তাদের মধ্য থেকে মোট ৫০ জন ঢাকায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত বাছাই পর্বে অংশ নেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাছাই পর্ব ও পরে দুপুর আড়াইটায় ঢাবির ব্যবসায়ী শিক্ষা অনুষদ এ প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ ফারুক মাল্টিপারপাস হলে হয় পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
অলিম্পিয়াডের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স আলবের্তো জিওভানেত্তি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আপনাদের আইনজীবী, বিচারক, কূটনীতিক, মানবাধিকারকর্মী, নেতা কিংবা অন্য কোনো পেশাজীবী হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে না। আপনারা এখন থেকেই নিজেদের পরিবার, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের মর্যাদা ও অধিকারকে সম্মান করার মাধ্যমে মানবাধিকারের পক্ষে কাজ শুরু করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আমি আপনাদের উৎসাহিত করব, এই অলিম্পিয়াডকে শিক্ষার একটি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং মানবাধিকারের প্রতি আজীবন অঙ্গীকারের সূচনা হিসেবে গ্রহণ করতে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সকালের আয়োজনে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী ও গুম সংক্রান্ত কমিশনের সাবেক সদস্য নূর খান লিটন, পুরস্কার বিতরণ পর্বের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের চার্জ’ডি অ্যাফেয়ার্স আলবের্তো জোভানেত্তি, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ, মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য প্রফেসর মো. শরীফুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী মো. মনিরুজ্জামান ও এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য মো. নূর খান লিটন বলেন, তরুণদের মধ্যে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানবাধিকারকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, মতাদর্শ বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়; বরং সর্বজনীন মানবিক মর্যাদা, সমতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দেখতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার শুধু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বা আইন বিভাগের বিষয় নয়, এটি সমাজের প্রত্যেক মানুষের বিষয়। তরুণদের ছোটবেলা থেকেই মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও বৈষম্যবিরোধী মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। সমাজে মানবাধিকার বিষয়ে বিদ্যমান সংকীর্ণতা ও একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে সর্বজনীন মানবাধিকারের ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করা জরুরি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ তরুণদের মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বাস্তব জীবনে মানবাধিকার মূল্যবোধ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার সম্পর্কে জ্ঞান তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা ব্যক্তির আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে।
অনুষ্ঠানে এইচআরএসএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম।