বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) গত দুই আসরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে লাভের বদলে বড় অঙ্কের লোকসানের পর এবার তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মকানুনে পরিবর্তন এনে আগামী বছর নতুনভাবে বিপিএল ফেরাতে চায় বোর্ড।
বৃহস্পতিবার মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
বিপিএল নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে তামিম বলেন, ‘এ বছর বিপিএল হচ্ছে না। আমরা একটা ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি।যখন ৬০-৭০ শতাংশ কাজ হয়ে যাবে, তখন আমি অ্যানাউন্স করব যে আমাদের ডোমেস্টিক ক্যালেন্ডারটা আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটা বেশ ডিফারেন্ট এবং ইন্টারেস্টিং হবে।’
চাইলেই দ্রুত কয়েকটি দল নিয়ে বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব, কিন্তু সেই পথে হাঁটতে চান না তামিম। তার কাছে টুর্নামেন্টের মান ও বিসিবির ভাবমূর্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘আমি চাইলে কালকেই পাঁচটা টিম দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি সেটা করব না। আমার জন্য ইম্পর্টেন্ট হলো ফেয়ার ক্রিকেট এবং বিসিবির ডিগনিটি বজায় রাখা। এটার জন্য ক্রিটিসিজম শুনতে হলেও আমি রাজি।’
তামিম আরও বলেন, ‘আমি আপাতত স্টপ করে পুরা জিনিসটাকে সুন্দর করে রিভাইভ করতে চাই।’
বিপিএল আয়োজনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ম-নীতি মেনে চলা এবং আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে এনেছেন বিসিবি সভাপতি। তার দাবি, গত দুই বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে, ‘বিপিএল এভাবে করব না। কিছু ক্ষেত্রে রুলস রেগুলেশনস ব্রেক করা হয়েছে। প্রবলেমটা হলো, যদি কোনো টিম পুল আউট করে বা কমপ্লায়েন্স মিট না করে, তবে বিসিবিকে ওই টিমের দায়িত্ব নিতে হয়। লাস্ট দুই বছরে বিসিবির ৪০ কোটির মতো লস হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে বিসিবির প্রফিট করার কথা, লস করার কথা নয়।’
তবে বিপিএল বন্ধ করে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির। বরং দীর্ঘমেয়াদে টুর্নামেন্টকে আরও শক্তিশালী করতে সময় নিতে চান তামিম। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের ইনটেনশন ১০০০ শতাংশ আছে এটা করার। বাট আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি প্রপারলি করতে চাই, তাতে যদি ৬ মাস বা ১২ মাস সময় লাগে আমি নেব। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে আমরা কমিউনিকেশন স্টার্ট করেছি। যারা ডিফল্ট করেছে তাদের বিষয়গুলো সেটেল করতে হবে।’
আগামী বছর বিপিএল আয়োজনের জন্য এপ্রিল-মে মাসের মধ্যেই ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। এতে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি শেষ মুহূর্তে সরে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তামিম, ‘আমরা চাচ্ছি এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রসেস কমপ্লিট করতে। আগে যেটা হতো, একদম শেষ মুহূর্তে সব করা হতো। আমরা এনাফ টাইম নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লক করতে চাই, যাতে কেউ ডিফল্ট করলে আমাদের হাতে অল্টারনেটিভ খোঁজার সময় থাকে। আমরা একটা সিস্টেমেটিক ওয়েতে নেক্সট ইয়ার এটা হোস্ট করার চেষ্টা করব।’
এদিকে বিপিএলের জন্য অপেক্ষায় থাকা ক্রিকেটারদের জন্যও বিকল্প পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তামিম জানিয়েছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন ক্যালেন্ডার নিয়ে কাজ চলছে। সেই কাঠামো চূড়ান্ত হলে জানানো হবে কীভাবে বিপিএলের অনুপস্থিতিতে ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।