জাহাজভাঙা শিল্পে প্রতিটি শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সমাবেশ করেছে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’ ও ‘শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম’।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মেসবাহউদ্দীন আহমেদ, সদস্য সচিব ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনসহ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।
তাই একটি নিরাপদ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শ্রমজীবী মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য।’
তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি শ্রমিকের মৃত্যুর সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করে মামলা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘জাহাজভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে অবহেলার কারণে শ্রমিকদের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শিল্প উন্নয়নের নামে ধারাবাহিকভাবে শ্রমিকদের প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
কোনো দুর্ঘটনারই সঠিক বিচার না হওয়া বা মামলা না হওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার সমালোচনা করে সুলতান উদ্দিন আহম্মদ দাবি করেন, শিল্প মন্ত্রণালয়কে সরাসরি দায়িত্ব নিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়।