News Headline :
উত্তেজনার পর বেরোবিতে একই মঞ্চে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির ভারতে পলাতক আসামিকে দিয়ে রাজনীতি করানো সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান: রিজভী ঢাকায় মহাসমাবেশসহ লং মার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের ‘পলাতক খুনিকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত’ কালের কণ্ঠ পরিদর্শনে ঢাকার রাশিয়ান হাউসের প্রতিনিধি নিরাপদ অভিবাসন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার ‘প্রতিধ্বনি’ করলেন তথ্যমন্ত্রী – শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন সরকারি চাকরিতে শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ জনপ্রশাসন উপদেষ্টার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নতুন ইউএনডিপি আবাসিক প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ সবুজবাগে খণ্ডিত লাশে ছিল সোনালি চুল, হাতে ট্যাটু, কানে দুল
উত্তেজনার পর বেরোবিতে একই মঞ্চে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

উত্তেজনার পর বেরোবিতে একই মঞ্চে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির

টানা তিন দিনের উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং ১৪৪ ধারা জারির আবেদনের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে একই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।কয়েক দিন আগেও যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন, তাদের একসঙ্গে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়।

এদিন সকালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণ এবং শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা ছাতা হাতে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে আনন্দ শোভাযাত্রা সম্পন্ন করেন।পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন, যার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।

ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার একই স্থানে পৃথকভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করে দুই সংগঠন। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেছিল।

এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের একই মঞ্চে দেখা যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ এবং জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখতে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সংলাপের বিকল্প নেই।

বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখেই আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ ও দ্বন্দ্ব থাকলেও তা সংঘাতে রূপ নেওয়া উচিত নয়। সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন।

বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, আমরা চাই ক্যাম্পাসে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রশক্তির সহাবস্থান নিশ্চিত হোক। সেই চিন্তা থেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আমরা আবারও একই মঞ্চে এসেছি। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রেখে ক্যাম্পাসে থাকতে চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনেছিল, সেই ঐক্য আমাদের ধরে রাখতে হবে। গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের কোনো ভুলের কারণে যেন অতীতের অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ফিরে না আসে।

তিনি বলেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই মঞ্চে অবস্থান করে প্রমাণ করেছে যে আমাদের ক্যাম্পাসে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। মতের ভিন্নতা থাকলেও আলোচনা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় আবারও শিক্ষা, গবেষণা ও ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতির পরিবেশে ফিরে যাবে, এমন প্রত্যাশাই সবার।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS