News Headline :
৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু! ‘কোনো অভিযোগ নেই, আমার জীবন প্রাপ্তি ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ’ – ৭৩ বছরে কিংবদন্তি ববিতা মানুষ আমাকে সিঙ্গেল দেখতে চায়: বিয়ের প্রশ্নে পরীমণি পুত্র সন্তানের মা হলেন কারিশমা প্রতারণার শিকার অভিনেত্রী, খোয়ালেন তিন লাখ টাকা লন্ডনের রহস্যময় নারীর সঙ্গে শাহরুখ পুত্র, প্রেমের গুঞ্জন শুরু যুদ্ধের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলছে: পাকিস্তান পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৩০ জনের বেশি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যাচ্ছে ইরানের তেল জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব বাছাইয়ে ভোট হচ্ছে আজ
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যাচ্ছে ইরানের তেল

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যাচ্ছে ইরানের তেল

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মধ্যেও মালয়েশিয়ার উপকূলকে ব্যবহার করে ইরানের অপরিশোধিত তেল চীনে পৌঁছানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মালয়েশিয়ার উপকূলসংলগ্ন বিশাল নোঙর এলাকা এখন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল কেনাবেচার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার (২৫ জুলাই) ইরানের তেলবাহী জাহাজ হিউম্যানিটি মালাক্কা প্রণালী ও সিঙ্গাপুর অতিক্রম করে মালয়েশিয়ার উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই এর স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়।

স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি মালয়েশিয়ার ‘ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস’ এলাকায় পৌঁছায়।দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এ নোঙর এলাকা মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাগরে অপেক্ষমাণ মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিতেই জাহাজটি ট্র্যাকিংয়ের বাইরে গিয়ে ‘ডার্ক’ হয়ে যায়।ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ তেলের চূড়ান্ত গন্তব্য সম্ভবত চীন। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ কিনে থাকে দেশটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বহু বছর ধরে মালয়েশিয়ার এই নোঙর এলাকা ইরান, রাশিয়া ও ভেনিজুয়েলার নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলের অনানুষ্ঠানিক বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যাটেলাইট তথ্য বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাঁচ মাসব্যাপী যুদ্ধ এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ চলার সময়ও সেখানে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মেরিটাইম সিকিউরিটি মনিটরিং প্রকল্পের পরিচালক রে পাওয়েল আল জাজিরাকে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে তিনি অন্তত ৬২টি জাহাজ শনাক্ত করেছেন, যেগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল, মালয়েশিয়া, হংকং ও উত্তর চীনের মধ্যে চলাচলের সময় ভুয়া বা বাতিল হয়ে যাওয়া পরিচয় ব্যবহার করেছে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির জ্যেষ্ঠ গবেষক এরিকা ডাউন্স বলেন, এসব জাহাজ মূলত মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যারা চীনের স্বাধীন ছোট তেল শোধনাগারে ইরানের তেল সরবরাহে সহায়তা করে।

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে তেল স্থানান্তর করা হয় এবং তেলের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে এই প্রক্রিয়া একাধিকবার সম্পন্ন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের ছোট তেল শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকায় তারা তুলনামূলক কম দামে ইরানের তেল কিনতে বেশি আগ্রহী।

মেরিটাইম নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ চার্লি ব্রাউন বলেন, মালয়েশিয়ার এই নোঙর এলাকা এখনো অত্যন্ত ব্যস্ত। যুদ্ধের আগে এবং সংঘাত চলাকালেও সেখানে নিয়মিত জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের কার্যক্রম দেখা গেছে।

তিনি জানান, শান্ত জলসীমা এবং সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সরবরাহ ব্যবস্থার কাছাকাছি অবস্থান করায় এলাকাটি এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য উপযোগী। যদিও এটি মালয়েশিয়ার এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের আওতায়, তবে দেশটির আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে হওয়ায় আইনি প্রয়োগ তুলনামূলক জটিল।

অবশ্য গত জুনে মালয়েশিয়া অবৈধ নোঙর, পুনরায় জ্বালানি সরবরাহ এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তর ঠেকাতে তাদের আইন সংশোধন করেছে। তবে এ বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।

চার্লি ব্রাউনের মতে, সাধারণ দিনেও ওই এলাকায় প্রায় ২০০টি জাহাজ নোঙর করে থাকে, যার অন্তত অর্ধেকের সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট তথ্যে দেখা গেছে, গত এক মাসে হিউম্যানিটিসহ ইরানের পতাকাবাহী অন্তত ১৮টি তেলবাহী জাহাজ ওই এলাকায় পৌঁছে ট্র্যাকিংয়ের বাইরে চলে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডোর নামের আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে মালাক্কা প্রণালী দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। একই সময়ে ওই এলাকায় অন্তত ৫০টি মার্কিন বা ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত জাহাজ অবস্থান করছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আরও অনেক ‘ডার্ক’ জাহাজ সেখানে রয়েছে।

ইউরোপভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিওপলিটিক্যাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসেস জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার ওই নোঙর এলাকায় স্থানান্তরিত ইরানের তেলের মূল্য পরিশোধ করা হয় চীনের আন্তসীমান্ত আন্তব্যাংক পরিশোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারিতে থাকা সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেই চীনা মুদ্রায় লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের তেল কেনার কথা স্বীকার না করলেও ওয়াশিংটনে দেশটির দূতাবাস জানিয়েছে, মালয়েশিয়া হয়ে ইরানের তেল চীনে যাওয়ার বিষয়ে তারা অবগত নয়। একই সঙ্গে বেইজিং আগের মতোই যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে।

গবেষক এরিকা ডাউন্স বলেন, গত বছর ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল চীনে রপ্তানি করলেও চীনের কাস্টমস তথ্যে ইরান থেকে কোনো তেল আমদানির হিসাব নেই। অন্যদিকে মালয়েশিয়া থেকে চীনের আমদানির পরিমাণ দেশটির নিজস্ব উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি, যা ইঙ্গিত দেয় যে ওই তেলের একটি অংশ অন্য উৎস থেকে এসেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ চলতি সপ্তাহে ইরানের তথাকথিত ‘ছায়া নৌবহর’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে আরও ছয়টি তেলবাহী জাহাজ এবং হংকং ও চীনভিত্তিক পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিং।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর চীনের ছোট শোধনাগারগুলোর ইরানি তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ার এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরানের তেল রপ্তানি এখনো সচল রয়েছে।

চার্লি ব্রাউন বলেন, নিষেধাজ্ঞা কখনোই এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। বরং নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাজারব্যবস্থা ও লেনদেনের কৌশল বদলে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS