প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স কাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্ট। এছাড়া তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর।
রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণের প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সমাপনী এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
সভাপতির বক্তব্যে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গড়া ‘নতুন কুঁড়ি’ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আদলেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তাধারায় ক্রীড়াঙ্গনে এই নতুন ধারার সূচনা করা হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ৬৪টি জেলায় পর্যায়ক্রমে ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে চলতি বছরই ১০টি স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে।এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরগুলোর বিকেএসপিগুলোকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।
খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্বের আওতায় আনতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া ভাতা ও স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আগামীতে এই পরিধি বাড়িয়ে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কৃত ৩১০ জন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে সেখান থেকে সেরা প্রতিভাদের বাছাই করে তাদের খেলাধুলা ও পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি খরচে বহন করা হবে বলে জানান আমিনুল হক।
আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মূল প্রতিযোগিতা শুরু হবে। প্রথম আসরে ৮টি ইভেন্ট থাকলেও এবার ভলিবল ও টেবিল টেনিস যুক্ত হয়ে মোট ১০টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তৃণমূলের পরিধি আরও বিস্তৃত করে এবার দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন পর্যায় থেকে খেলোয়াড় বাছাই করা হবে।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে ইতোমধ্যে ২০১ জন উপজেলা ক্রীড়া অফিসার নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং আরও ২৯৪ জনের নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।