২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের ১-০ ব্যবধানের জয়ের পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে এক চমকপ্রদ বক্তব্য দিয়েছেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার পাবলো গাভি। ফাইনাল বাঁশি বাজার পর মাঠের হাতাহাতিতে আর্জেন্টিনা দলের লিয়ান্দ্রো পারেদেসের হাতে নিগৃহীত হওয়া সত্ত্বেও স্প্যানিশ এই তরুণ মনে করেন, এই ঘটনার জন্য পারেদেসকে জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত হবে না।
ফাইনালে জয় পাওয়ার পর স্পেন ফুটবল দল যখন উল্লাসে মেতে ওঠে, ঠিক তখনই মাঠে দুই দলের মধ্যে বড় ধরনের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। আর্জেন্টিনার পারেদেস, নাহুয়েল মলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালা এই সংঘর্ষে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
ঘটনা চলাকালীন পারেদেস স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরে ধাক্কা দেন। বদলি বেঞ্চে থাকা গাভি পরিস্থিতি সামলাতে ও সতীর্থকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকে আলমাদা মাটিতে ফেলে দেন।পরবর্তীতে পারেদেস নিজেও গাভির মুখে হাত দিয়ে তাকে মাটিতে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ফিফা একজন শৃঙ্খলামূলক ও নীতি বিষয়ক তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে।তদন্ত শেষে জড়িত খেলোয়াড় বা কোচের শাস্তিস্বরূপ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থাকে (এএফএ) বড় অঙ্কের জরিমানা করা হতে পারে।
তবে স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন ‘এল পার্তিদাসো দে কোপে’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাভি বলেন, ‘আমার মনে হয় না পারদেসকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমি বুঝি এটি শিশুদের জন্য ভালো কোনো বার্তা দেয় না। তবে আমি এটাও মনে করি যে, ফুটবলের একটি শারীরিক ও কিছুটা আক্রমণাত্মক রূপও রয়েছে।’
বার্সেলোনার এই তরুণ মিডফিল্ডার আরও যোগ করেন, ‘সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত বিষয় হতো যদি ম্যাচের সময়েই তাকে (পারেদেস) লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া হতো, ব্যস ওই পর্যন্তই। দিনশেষে, আমার মনে হয় এগুলো ফুটবলেরই অংশ এবং এটি এমনই হওয়া উচিত।’
এদিকে ম্যাচ চলাকালীন একটি বড় তথ্যগত ভুল ছড়িয়ে পড়েছিল। ফিফার অফিশিয়াল কমেন্টেটর ইনফরমেশন সিস্টেমে ভুলবশত দেখানো হয় যে, রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ গার্সিয়ার গলা চেপে ধরার জন্য পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন।
তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সিস্টেম থেকে পারেদেসের লাল কার্ড তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘বিবিসি স্পোর্টস’-কে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে যে, ম্যাচ চলাকালে পারেদেসের বিরুদ্ধে রেফারি তাৎক্ষণিক কোনো শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা (যেমন লাল কার্ড) গ্রহণ করেননি।
উল্লেখ্য, ফাইনাল ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনার আরেক মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেসকে।