রাজধানীর ব্যস্ততম মোড় বিজয় সরণি। বেলা তখন ১১টা।জাহাঙ্গীর গেটমুখী সড়কে হঠাৎ থেমে যায় যানবাহনের সারি। সিগন্যালের লাল বাতি জ্বলাতেই নির্ধারিত স্টপলাইনের আগে থেমে দাঁড়ায় মোটরসাইকেল, বাস, প্রাইভেটকার ও সিএনজি।নির্দিষ্ট দাগ অতিক্রম করছে না কোনো যানবহন, নেই আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতাও।
কয়েকদিন আগেও যেখানে ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারা ছাড়া গাড়ি থামত না, সেখানে এখন চালকদের আচরণে পরিবর্তন এনে দিয়েছে এআই ক্যামেরা।রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ক্যামেরার কারণে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হচ্ছেন চালকরা।
বিজয় সরণিতে সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাই এআই ক্যামেরা আছে, সিগন্যাল অমান্য করলে কিংবা দাগের ওপর চাকা গেলে অটো মামলা হবে।সিএনজিচালক দিদারুলেরও একই ভয়। তিনি বলেন, ফেসবুকে দেখেছি রাস্তায় ট্রাফিক আইন না মানলে মামলা হচ্ছে। এজন্য নিয়ম মানছি।
যান চলাচলে বিশৃঙ্খল এই মহানগরে চালকদের শৃঙ্খলায় ফেরাতে অতীতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সেসব প্রচেষ্টার কোনোটিই সফল হয়নি। এবার চালকদের নিয়মের মধ্যে আনতে প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে পুলিশ, যার সুফলও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগ চালুর প্রথম চার দিনেই বেশিরভাগ সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেছে। দেখা যাচ্ছে নিয়ম মানার প্রবণতাও। ফলে ট্রাফিক পুলিশকে এখন আর হাতের ইশারাও দিতে হচ্ছে না। আগে যেতে প্রতিযোগিতা করতেও দেখা যাচ্ছে না কাউকে।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এআই প্রযুক্তির সুফল মিলতে শুরু করেছে। ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভাঙার দৃশ্য। পরে সেই ফুটেজ যাচাই-বাছাই শেষে দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল মামলা। এ কারণে চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এটি চালু থাকলে ঢাকা শহরে গাড়ির গতি আরও বাড়বে, সড়কেও শৃঙ্খলা ফিরবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের পাশাপাশি বসানো হয়েছে এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ই-প্রসিকিউশন বা ডিজিটাল মামলা ব্যবস্থাও।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ১৩ মে পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন অমান্যের প্রায় ১০ হাজারের বেশি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি ফুটেজ দেখা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলো যাচাই-বাছাই করছে ট্রাফিক পুলিশের টেকনিক্যাল টিম (টিটিইউ)। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী মামলা ও নোটিশ পাঠানো হবে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর অন্তত ১০৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন ভঙ্গ, উল্টো পথে চলাচল, জেব্রা ক্রসিং দখল, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, সিটবেল্ট না পরা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, অবৈধ পার্কিং ও অনুমতি ছাড়া ভিআইপি লাইট ব্যবহারের মতো বিভিন্ন অপরাধ শনাক্ত করছে।
গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্তে বসানো হয়েছে পিটিজেড ক্যামেরা
পিটিজেড ক্যামেরা হলো প্যান-টিল্ট-জুম প্রযুক্তির একটি উন্নত নিরাপত্তা ক্যামেরা, যা দূরবর্তী স্থান থেকে ডানে-বামে, উপরে-নিচে ঘোরানো এবং জুম করা যায়। এটি বড় এলাকা, যেমন– পাবলিক প্লেস পর্যবেক্ষণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়। কারণ এই ক্যামেরা ঘুরে ঘুরে পুরো জায়গা কাভার করতে পারে। এছাড়া চলন্ত বস্তু বা ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ করতে পারে। ওয়াই-ফাই সংযোগের মাধ্যমে সহজেই অ্যাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অপটিক্যাল জুমের মাধ্যমে অনেক দূর থেকেও স্পষ্ট ছবি বা গাড়ির নম্বর প্লেট শনাক্ত করা যায়।

যেসব এলাকায় বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা
রাজধানীর গুলশান-১, গুলশান-২, উত্তরা, বিমানবন্দর সড়ক, রামপুরা ট্রাফিক বক্স, মহাখালী, শাহবাগ, হাইকোর্ট ক্রসিং, সচিবালয় সিগন্যাল, কদম ফোয়ারা, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, পুলিশ ভবন, পুরাতন রমনা থানা ক্রসিং, বাংলামোটর, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর রোডের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এলাকা, গাবতলী ও শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণিসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর বিজয় সরণি, শাহবাগ, সোনারগাঁও, বাংলামোটর, মৎস্য ভবন ও সচিবালয় এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যস্ত সড়কে যানবাহনের চাপ আগের মতো থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মোড়ে মোড়ে স্থাপিত এআই ক্যামেরা দিয়ে সিগন্যাল অমান্য, স্টপলাইন ভঙ্গ ও উল্টো পথে চলাচলের মতো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ আইন ভঙ্গ করছে না। প্রায় সব চালকের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও আইন ভাঙছেন না চালকরা
দেখা গেছে, সিগন্যাল পরিবর্তনের সময় অনেক চালক আগের তুলনায় বেশি সতর্ক। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা অনেকটা বেড়েছে বলে দায়িত্বরত ট্রাফিক সদস্যরা জানান। আগে যেখানে ট্রাফিক পুলিশ না দেখলে অনেক চালক সিগন্যাল অমান্য করতেন, সেখানে এআই ক্যামেরার উপস্থিতি তাদের আচরণে পরিবর্তন এনেছে।
এ বিষয়ে বিজয় সরণি, শাহবাগ, মৎস্য ভবন ও গুলশান এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টররা জানান, এআই ক্যামেরা চালুর পর আইন লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। আগে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক সদস্যদের সরাসরি উপস্থিত থেকে গাড়ি থামিয়ে ব্যবস্থা নিতে হতো। এতে সময় ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি যানজটও তৈরি হতো। এখন ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ হওয়ায় কাজের চাপ কিছুটা কমেছে এবং প্রমাণভিত্তিক মামলা দেওয়া সহজ হচ্ছে। তারা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বিজয় সরণিতে একটি মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমাস হাসান বলেন, এআই ক্যামেরা আমাদের হাতে নেই। সম্পূর্ণ ডিএমপি হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটর ও কন্ট্রোল করা হচ্ছে। কেউ আইন ভঙ্গ করলে তার ছাড় নেই। মামলা হবেই। কোনো তদবির-সুপারিশ চলবে না।
যা বলছেন চালক ও যাত্রীরা
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পর চালক ও যাত্রীদের মধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বেশিরভাগ চালক এখন আগের তুলনায় বেশি সতর্ক হয়ে চলছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। চালকরা বলছেন, কোথায় কখন ক্যামেরায় আইন ভঙ্গের ফুটেজ ধারণ হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না, ফলে বাধ্য হয়েই নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে। এতে সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন তারা।
শাহবাগ মোড়ে প্রাইভেটকার চালক কবির হোসেন বলেন, যার গাড়ি চালাই তিনি বলে দিয়েছেন এআই মামলা হচ্ছে। আগের চেয়ে আমি আরও সচেতন হয়েছি। সড়কে দেখছি প্রায় সবাই সতর্ক হয়েছে। ট্র্যাফিকের লাল বাতি জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে সবাই ব্রেক করছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকরাও নিয়ম মানছে। আগে মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি আইন ভাঙত।
ফার্মগেট মোড়ে অপেক্ষমাণ বেসরকারি চাকরিজীবী ফাবিহা তাবাসসুম বলেন, আগে সিগন্যাল অমান্য করে গাড়ি চলত বলে রাস্তা পার হতে ভয় লাগত। এখন চালকরা কিছুটা ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হলে সড়কে শৃঙ্খলা আরও ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

যেভাবে কাজ করছে এআই ক্যামেরা
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে সড়কে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কাগজের স্লিপে মামলা দেওয়া হতো। পরে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সিস্টেমের অংশ হিসেবে পস (পয়েন্ট অব সেল) মেশিন চালু করা হয়। তবে সড়কে গাড়ি থামিয়ে তাৎক্ষণিক মামলা ও জরিমানা আদায়ের কারণে যানজট আরও বাড়ত। সেই সমস্যা কমাতেই এআই-ভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থার দিকে যায় ডিএমপি। রাজধানীতে স্থাপন করা এসব ক্যামেরায় ব্যবহার করা হচ্ছে ‘রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যাক্ট-২০১৮ ভায়োলেশন ডিটেকশন সফটওয়্যার’। ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে সেই তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের মোবাইলে এসএমএস এবং ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হয়, তবে সমন, এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের এআই প্রযুক্তির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ১৩ মে একদিনে ৭৪৮টি ট্রাফিক আইন অমান্যের ফুটেজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবগুলোর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে না। প্রাথমিকভাবে যারা বেশি আইন অমান্য করেছেন, শুধু তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। যাতে করে মানুষ সচেতন হয়। ভবিষ্যতে যারা আইন ভাঙবে সবার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।
রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক আইন ভাঙলে কী হবে?
এআই ক্যামেরায় যদি ধরা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করেছে, সেক্ষেত্রে কী হবে– সেই কথাও সামনে আসছে। এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশ বলছে, জরুরি সেবাদানকারী যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো চালক এআই দিয়ে মামলা খায়নি। অ্যাম্বুলেন্সগুলো অনেক সময় রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রোগী নামায়। রাস্তার পাশে হাসপাতাল, সময় লাগতেই পারে। এক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের বেশি এই মামলা খাওয়ার শঙ্কা থাকে। আবার রোগী থাকে ইমার্জেন্সি, রোগীর লোকজনের কথায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভাররা উল্টো পথে যায়। ট্রাফিক সিগন্যাল হলেও যেভাবে হোক রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য চালকরা আইন লঙ্ঘন করে। এটা অহরহ হয়ে থাকে। এআই মামলা যদি আমাদের বিরুদ্ধে করে তবে সর্বোচ্চ মামলা অ্যাম্বুলেন্সে হবে, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও এবং কাগজপত্র ঠিক না থাকলেও। আমাদের জন্য সরকার কি করবে, এটা সুনির্দিষ্টভাবে বলা নেই।
অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, সবকিছু তো আইন দিয়ে চলে না। পুলিশের কিছু মানবিক দিক তো দেখতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সের বিষয়টি অবশ্যই আমরা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখব।
রয়েছে জটিলতাও
নতুন এই ব্যবস্থার কিছু জটিলতাও ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। অনেক যানবাহনের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট, আবার কিছু গাড়িতে নম্বর প্লেটই নেই। ফলে ক্যামেরা সেসব যানবাহন শনাক্ত করতে পারছে না। এ কারণে শিগগিরই অভিযানে নামতে যাচ্ছে পুলিশ।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, অনেক চালক নির্ধারিত নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু পেইন্ট দিয়ে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর লিখে যানবাহন চালাচ্ছেন। আবার অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের ফি পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। বিভিন্ন যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে স্থাপিত আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে, যা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

এ অবস্থায় যানবাহনের মালিক ও চালকদের বিআরটিএর নির্ধারিত ডিজাইন, রং ও সাইজের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে স্থাপন এবং আরএফআইডি ট্যাগ কার্যকর আছে কি না তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিগগিরই বিআরটিএর সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।
১০ হাজারের বেশি ফুটেজ জমা, মামলা ৫০০
সার্বিক বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের রেসপন্স ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় সব সিগন্যালে বেশিরভাগ চালক আইন মানছেন, এটি পজিটিভ একটি দিক।
তিনি বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ফুটেজ জমা হয়েছে। এসব ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছে আমাদের টেকনিক্যাল টিম। ইতোমধ্যে ৫০০ মামলা পাঠিয়ে দিয়েছি। ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট (টিটিইউ) মূলত এই ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করছে। এই ইউনিটে বর্তমানে জনবল সংখ্যা সাতজন। ধীরে ধীরে জনবল বাড়াব। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আগামী সাত দিনের মধ্যে চালক ও মালিকদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ও ডাকযোগে নোটিশ চলে যাবে।
ক্যামেরার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিছুর রহমান বলেন, আগে পিটিজেড ক্যামেরা ছিল ৮০টি, নতুন করে বসানো হয়েছে আরও ২৫টি। মোট ১০৫টি এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে।