জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৈরি হচ্ছে বিশেষ গ্যালারি ও আধুনিক লাউঞ্জ। লর্ডসের আদলে নির্মিত এই সুবিধা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য এক ধরনের ‘হোম’ হয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।
সোমবার বোর্ড সভা শেষে তামিম মূল মাঠে প্রবেশ করেন। সেখানে সাধারণ গ্যালারি দেখিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ লাউঞ্জ তৈরির বিষয়টি জানান, ‘এখানে আমরা বাংলাদেশের ১৭০-১৮০ জন জাতীয় ক্রিকেটারের জন্য একটি সুন্দর লাউঞ্জ তৈরি করছি।শুধু লাউঞ্জই নয়, সামনে যে সিটগুলো আছে সেগুলো রেনোভেট করে এখানে একটি বড় ব্যালকনি করা হবে। এই লাউঞ্জে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকবে।পাশাপাশি গ্যালারির মাঝের ডিভাইডার সরিয়ে পুরো ব্লকটিকেই জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পুরো ব্লকটাই ন্যাশনাল ক্রিকেটারদের জন্য ডেডিকেট করা হবে।এখানে তারা বসে খেলা দেখতে পারবেন, চা-কফি খেতে পারবেন—বিশ্বের বড় স্টেডিয়ামগুলোর মতোই একটি পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। এই জায়গায় ক্রিকেটারদের জন্য বিশেষ এক্সেস কার্ড থাকবে, যা শুধুমাত্র জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।’
কিছুদিন আগে অধিনায়কদের হাতে ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ তুলে দিয়েছিলেন তামিম। এরপর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল, বলা হচ্ছিল দলের অন্য ক্রিকেটারদের অবদান তাহলে কি? তবে এবার তামিম নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে সমালোচকদের মুখে কুলুপ এটে দিলেন!
এই উদ্যোগের পেছনের ভাবনা ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, ‘আমি সবসময় বলি, এটা ন্যাশনাল ক্রিকেটারদের হোম। কিন্তু তাদের তো কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। তাই তাদের জন্য এই জায়গাটা আজীবনের জন্য তৈরি করে দিচ্ছি। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই লাউঞ্জ ও ব্যালকনির কাজ সম্পন্ন হবে। ভিউতে কোনো সমস্যা থাকবে না। পুরো ভিউয়িং এরিয়া গ্লাস দিয়ে সুন্দরভাবে করা হবে।’
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর জন্যও একটি অফিস স্থাপন করা হবে এখানে। শুধু ম্যাচের দিনই নয়, অন্য যেকোনো দিনও ক্রিকেটাররা এখানে অবাধে আসতে পারবেন।
লর্ডস স্টেডিয়ামের আদলে না হলেও কাছাকাছি কিছু করার স্বপ্ন রয়েছে তামিমের, ‘চেষ্টা করছি ওই ধরনেরই। যেন তারা শুধু খেলার দিন না, যেকোনো সময় এসে এখানে বসতে পারেন, কফি খেতে পারেন, সুন্দর মাঠের ভিউ উপভোগ করতে পারেন।’
ভবিষ্যতে স্ট্যান্ডের নামকরণ নিয়েও ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তামিম বলেন, ‘আমরা চাই ক্রিকেটারদের সম্মান জানাতে স্ট্যান্ডের নামকরণ করতে। কিন্তু বিষয়টা খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে, যেন কাউকে অবমূল্যায়ন না করা হয়। শুধু পরিসংখ্যান নয়, যার যত অবদান আছে সেটার মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’