তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে নিউজিল্যান্ডকে দাপটের সঙ্গে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার জিতলেই চট্টগ্রামেই সিরিজ জয়ের উৎসব করতে পারবেন লিটন দাসরা।যদিও বুধবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কেবল নিউজিল্যান্ডই নয়, বৃষ্টিও।
চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া।মঙ্গলবার দিনভর তুমুল বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে। এই বৃষ্টি আগামীকালও স্থায়ী হতে পারে।সেটি হলে সিরিজ জয়ের মিশনটা দীর্ঘায়িত হতে পারে স্বাগতিকদের।
তবে সব ঠিক থাকলে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই দলের লড়াই শুরু হবে দুপুর দুইটায়।ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথমটি জিতে এগিয়ে রয়েছে। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচে নামবে স্বাগতিকরা। কিউইদের গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর মঙ্গলবার পুরো দিন বিশ্রামেই কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। টিম হোটেলে কয়েকজন ক্রিকেটার জিম করেছেন, বাকিরা কাটিয়েছেন অবসর সময়।
তবে বাংলাদেশ দল নির্ভার সময় কাটালেও কিউই শিবির ছিল ব্যস্ত। যদিও অনুশীলন ছিল ঐচ্ছিক। সেই অনুশীলনে নিউজিল্যান্ডের ৭-৮ জন ক্রিকেটার সাগরিকায় ইনডোরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের জন্য ম্যাচটি সিরিজ বাঁচানোর লড়াই। বুধবার হেরে গেলে ঢাকার ম্যাচটি নিয়মরক্ষার ম্যাচে পরিণত হবে। তাই যে কোনো মূল্যে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তারা।
আগের ম্যাচে ভালোই ব্যাটিং করেছিল নিউজিল্যান্ড। তবে শুরুর দাপট থেমে যায় বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে আরও ভালো করার লক্ষ্য তাদের। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে উন্নতির কথা বলেছে কিউই শিবির। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ডিন ক্লেভার বলেছেন, ‘বোলিংয়ের দিক থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। আমরা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করব এবং আশা করি পরের ম্যাচে আরও ভালো বোলিং করতে পারব।’
এদিকে পুরো দিন হোটেলে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ছিলেন ফুরফুরে মেজাজে। কিউইদের উড়িয়ে দিয়ে সিরিজ শুরু করায় ড্রেসিংরুমে স্বস্তির হাওয়া বইছে। সেই স্বস্তি আরও বাড়িয়ে নিতে চান তারা। বুধবারই সিরিজ জিতে ঢাকায় ফিরতে চায় বাংলাদেশ দল। দলের এক ক্রিকেটার বলেন, ‘আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলেছি, নিউজিল্যান্ডকে সুযোগ দিইনি। আগামীকাল নতুন একটি ম্যাচ। একই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা মাঠে নামব। আমাদের লক্ষ্য সিরিজ জিতে ঢাকায় ফেরা।’
বাংলাদেশ চাইবে সিরিজ নিশ্চিত করতে, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের লক্ষ্য সিরিজে ফেরা। তবে দুই দলের এই লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দ্বিতীয় ম্যাচের দিনও ঝড়ো বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসা বা খেলা বারবার ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টস বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ কম ওভারের ম্যাচ হলে কৌশল পুরোপুরি বদলে যায়।
এছাড়া মঙ্গলবারের টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের উইকেট প্রস্তুতিতেও প্রভাব পড়েছে। ফলে আগের ম্যাচের মতো একেবারে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট নাও হতে পারে। বৃষ্টির কারণে ধীরগতির উইকেটে খেলতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে দলগত কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ স্লো উইকেটে তিন পেসার খেলানো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচটি হতে যাচ্ছে অনিশ্চয়তায় ঘেরা। একদিকে ঘুরে দাঁড়াতে চাওয়া নিউজিল্যান্ড, অন্যদিকে বৃষ্টির চোখ রাঙানি—এই দুই বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ চট্টগ্রামেই সিরিজ জয়ের আনন্দে মাততে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।