আকাশে কখনো তপ্ত রোদ, আবার পরক্ষণেই ঝমঝমিয়ে নামছে বৃষ্টি। প্রকৃতির এই রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরিতে নাজেহাল জনজীবন।তবে এই প্রতিকূল আবহাওয়ায় কদর বেড়েছে ছাতার। রাজধানীসহ সারা দেশে এখন চলছে ছাতা বিক্রির ধুম।আবহাওয়া অফিস বলছে, এমন খামখেয়ালি আচরণ আরও কয়েকদিন চলতে পারে, আর তাতে কপাল খুলেছে ছাতা ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেট ও গুলিস্তান এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সবখানেই ছাতা বিক্রির চিরচেনা ব্যস্ততা।দোকানে দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে যেমন ছাতা কিনছেন অনেকে, তেমনি কড়া রোদ থেকেও ত্বক রক্ষায় ছাতাকেই বেছে নিচ্ছেন পথচারীরা।

বাজারে এবার নজর কাড়ছে বৈচিত্র্যময় সব ছাতা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে রঙিন ও প্রিন্টেড ফোল্ডিং ছাতা। এক সময়ের জনপ্রিয় শংকর ছাতার চাহিদা থাকলেও বর্তমান বাজারে নানা কোম্পানির ছাতা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে আছে আফছার ছাতা, আয়েশা, স্টার, বিএমডব্লিউ প্রভৃতি নাম।
ফোল্ডিং ছাতা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়। অটোমেটিক ছাতার দাম রাখা হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। বড় ফ্যামিলি সাইজ ছাতা ৪৫০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। শিশুদের ছাতা, কার্টুন ও বাহারি নকশার ছাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বর্তমান বাজারে বিএমডব্লিউ ছাতার চাহিদা একটু বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
গুলিস্তানের ছাতা বিক্রেতা মো. জাহিদ বাংলানিউজকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দম ফেলার সময় পাচ্ছি না। এবার রোদের তেজ যেমন বেশি, বৃষ্টিও হচ্ছে হঠাৎ হঠাৎ। তাই খুচরা বিক্রেতারা প্রচুর মাল নিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার বিক্রি ভালোই। তবে গত দুই দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন দোকানের এক খুচরা বিক্রেতা জানান, দেশি ছাতার পাশাপাশি বিভিন্ন চাইনিজ ব্র্যান্ডের ফোল্ডিং ছাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে যারা অফিসে যাতায়াত করেন, তারা ব্যাগে রাখার সুবিধার জন্য ছোট ফোল্ডিং ছাতা বেশি খুঁজছেন।
মতিঝিলে অফিসগামী যাত্রী শাহানা পারভীন বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হলাম, আবহাওয়া ভালোই ছিল, অথচ অফিসে পৌঁছানোর আগেই শুরু হলো বৃষ্টি। ছাতা ছাড়া এখন ঘর থেকে বের হওয়া অসম্ভব। তাই বাধ্য হয়েই নতুন একটা ছাতা কিনলাম।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েকদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ছাতার এই চড়া চাহিদা আরও কিছুদিন থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।