পোশাক শিল্পের বর্তমান বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি সহায়তা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিজিএমইএর পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ অনুরোধ জানায়।
বিজিএমইএ জানায়, প্রতিনিধি দল প্রধানত তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেছে।
বিজিএমইএর দাবি ছিল বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫ এর আওতায় নীতি সহায়তার জন্য গত ডিসেম্বরের পরিবর্তে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত খেলাপি হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভূক্ত করা।এতে করে নতুনভাবে অনেক রুগ্ন ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তার আওতায় আসতে পারবে, যা তাদের ব্যবসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে অনাদায়ী ঋণ কমে আসবে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তার শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তা অনেক ক্ষেত্রেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো যথাসময়ে ও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশনা নিশ্চিত করা হলে শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরে আসতে সক্ষম হবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে বলে মনে করছে বিজিএমইএ।
বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা। সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মত দেওয়া হয়। এর ফলে বাস্তবভিত্তিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন সম্ভব হবে, যা কার্যকর পুনর্বাসন ও পুনরুজ্জীবন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
ডেপুটি গভর্নর বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির।