ট্রাম্পকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে অপসারণ চাইলেন সিআইএর সাবেক পরিচালক

ট্রাম্পকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ বলে অপসারণ চাইলেন সিআইএর সাবেক পরিচালক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান বলেছেন, ট্রাম্পের মতো পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ২৫তম সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছিল।

মার্কিন সংবিধানের ওই সংশোধনী অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য একমত হলে কোনো প্রেসিডেন্টকে ‘কার্যক্ষমতাহীন’ বা ‘বিতর্কিত’ বিবেচনা করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়।

সম্প্রতি টেলিভিশন চ্যানেল এমএস নাউয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান অভিযোগ করেন, ইরানকে নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তার মানসিক স্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।তিনি বলেন, এমন মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে প্রেসিডেন্ট ‘মানসিকভাবে ভারসাম্য হারাচ্ছেন’ এবং এ অবস্থায় তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্রেনানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক শক্তি, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ একজন বিতর্কিত প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিতও বহন করতে পারে।

গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে ‘ইরানি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’।এমন মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার  আমলে সিআইএ পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন ব্রেনান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের একটি ফৌজদারি তদন্তও চলছে, যা তিনি ও তার সমর্থকেরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে দেখছেন।

মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে, কোনো প্রেসিডেন্ট মারা গেলে, পদত্যাগ করলে বা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্টই তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য হলে তা পূরণের প্রক্রিয়াও এই সংশোধনীতেই নির্ধারিত রয়েছে। ১৯৬৫ সালে ৮৯তম কংগ্রেস এটি অঙ্গরাজ্যগুলোর অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করে এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।

সাম্প্রতিক হিসাবে, কংগ্রেসের ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য এই সংশোধনী প্রয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বাস্তবে এর প্রয়োগের সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আবারও সংঘাতের দিকে গড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আরও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS