ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ‘বাজেট সাপোর্ট’ গ্রহণসহ নানাবিধ সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে জয়নাল আবদিনের (ফেনী-২) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর ও বিশৃঙ্খল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ নিয়েই বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যে একগুচ্ছ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী অর্থনীতির ভিত মজবুত করতে গৃহীত প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো-
জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি ও জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি দেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে ‘কৃষি বিমা’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: বাজার তদারকি জোরদার এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষায় কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা: ব্যাংক খাতের অনিয়ম দূর করা, ঋণ আদায় জোরদার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক সুরক্ষা ও ৫০ লাখ পরিবারকে ভাতা: নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লক্ষ দরিদ্র পরিবারকে মাসিক ২৫০০ টাকা করে ‘জিটুপি’ পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সকল দরিদ্র পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
রাজস্ব ও বৈদেশিক খাত: কর ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং প্রবাস আয় (রেমিট্যান্স) ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগ ও স্বচ্ছতা: বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যবসার জটিলতা কমানো হচ্ছে। এছাড়া সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।
সংসদকে আশ্বস্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য হলো একটি সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক এবং শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।