মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাদ দিয়ে বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন সম্ভব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা দিবসের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণকালে তিনি এ কথা বলেন।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নিখিল দাস, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, মাঈন উদ্দিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য নাসির উদ্দিন প্রিন্স প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, শোষণ আর বৈষম্যের বিরুদ্ধে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের লক্ষ্যে স্বাধীনতাকামী জনগণ দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তির জনযুদ্ধে দেশ স্বাধীন করেছে।অথচ গত ৫৫ বছরে মুক্তিযুদ্ধের সেই ঘোষণা অঙ্গীকার আজও বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত-পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন হওয়ার পর ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিতরে শোষণ আর বৈষম্যের শাসনে একই রাষ্ট্রের এক অংশ দ্বারা অপর অংশ আমরা উপনিবেশে পরিণত হয়েছিলাম। এর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে শোষণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর, আল শামসের বিরুদ্ধে মুক্তিকামী জনতার দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তির জনযুদ্ধে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পুঁজিবাদী মুক্তবাজারী অর্থনীতিতে দেশ পরিচালনার ফলে সাম্যের পরিবর্তে বৈষম্য আজ আকাশ চুম্বি, মানবিক মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত ও সামাজিক ন্যায় বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে। আমরা ভৌগোলিকভাবে স্বাধীন হলেও অর্থনৈতিকভাবে মুক্তি অর্জন আজও হয়নি।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা সমতার সমাজ ও একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই জারি রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাদ দিয়ে ’২৪-এর অভ্যুত্থানের গণ আকাঙ্খা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি ১৯৭১ সালের গণহত্যাকারীদের সকলের বিচার সম্পন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের নৈতিকতা ও যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।