জুলাই সনদ নিয়ে আন্দোলনের হুমকি ষড়যন্ত্র নামান্তর: প্রিন্স

জুলাই সনদ নিয়ে আন্দোলনের হুমকি ষড়যন্ত্র নামান্তর: প্রিন্স

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নবনিযুক্ত ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, জুলাই সনদ নিয়ে জামায়াত-জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটের মাঠ গরম করার চেষ্টা কখনোই সফল হবে না, বরং তা বুমেরাং হবে। 

তিনি বলেছেন, বিএনপি জুলাই সনদকে অস্বীকার বা অবজ্ঞা করছে না এবং করবেও না। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি- বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ আমরা ধারণ করি এবং বাস্তবায়ন করব। তাই এটি নিয়ে অপপ্রচার ও মাঠ গরম করার চেষ্টা মূলত ষড়যন্ত্রেরই অংশ।জামায়তের নেতার বলছেন- আন্দোলনের পথ নাকি তাদের চেনা আছে। আমাদেরও ষড়যন্ত্র মোকাবিলার পথ ভালোভাবেই জানা আছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর শহরের ডিএস মাদরাসা মাঠে স্বাধীনতা দিবসের র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের দেড় মাসের মধ্যে একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।এতে জামায়াত-এনসিপি জোটসহ স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে, যা অতীতের আওয়ামী অপকৌশলের পুনরাবৃত্তি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জামায়তের আমিরের বক্তব্যের সমালোচনার জবাবে প্রিন্স বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগকে অসাংবিধানিক বলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যে বিধানের আওতায় ডক্টর ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্ট মেয়র ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছিল।সেই একই বিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারও প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এটি শতভাগ বৈধ এবং এই নিয়োগকে অবৈধ বলা আইনের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ স্তিমিত ও কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল, জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল। এ প্রসাশক নিয়োগ নির্জীব হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর ও গণমুখী করে জনগণকে সেবা ডেয়ার উদ্যোগ। 

বক্তব্যের এক পর্যায়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে প্রিন্স বলেন, ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে বর্বরোচিত হামলার পর জাতি যখন দিকনির্দেশনার অপেক্ষায়, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সেনানিবাসে উই রিভল্ট বলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।তার সেই সাহসী আহ্বান মুক্তিযুদ্ধকে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ দেয় এবং দেশবাসীকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আমজাদ আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অব্দুল হামিদ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীব, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আশরাফ, আবদুল হাই, কাজী ফরিদ আহমেদ পলাশ, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন খান, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনার ইঊনূস আলী খান, রমজান আলী, আবদুল জলিল, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি বিশাল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় র‍্যালিটি পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উত্তর বাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। 

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS