মহান স্বাধীনতা দিবসে কুড়িগ্রাম সদরের ঘোগাদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সূর্যোদয়ের পরপরই ভূমি অফিস চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধারা বলছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা শুধু পতাকা বিধি লঙ্ঘন নয়, এটি মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় পতাকা অবমাননার শামিল।স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির জন্য আনন্দের দিন হলেও বিধি লঙ্ঘন করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা অপরাধের শামিল। এ ঘটনায় ভূমি অফিসের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।
জাতীয় শোক দিবস ও সরকার ঘোষিত নির্দেশনা ছাড়া জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা অপরাধের শামিল। বাংলাদেশ ন্যাশনাল এনথেম ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১০ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা অবমাননা করলে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঘোগাদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা জাতীয় পতাকা দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত একই অবস্থায় উত্তোলন করা ছিল। প্লাস্টিকের পাইপের তৈরি পতাকার খুঁটিটি হেলে আছে। যেন ভূমি রাজস্ব আদায়ের কার্যালয়টি জাতীয় পতাকার যথাযোগ্য সম্মান দেওয়ার অর্থ সংকটে ভুগছে। অথচ পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে টিসিবি’র পণ্য বিক্রি চলছিল।
পরে ঘোগাদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মালেককে বিষয়টি জানালে তিনি দুপুর ২ টার দিকে গ্রাম পুলিশ সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে পতাকা ঠিক করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী কাইয়ুম মিনহা স্বাধীনতা দিবসে পতাকা অর্ধনমিত রাখার সমালোচনা করে বলেন, আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। আজ কি জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা যায়? এটা স্বাধীনতার প্রতি অবজ্ঞা। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা সত্যি নিন্দনীয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, স্বাধীনতা দিবসে এভাবে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা জাতীয় দিবস ও মহান স্বাধীনতার প্রতি অবহেলা, অবমাননা।এটা মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি অবহেলার শামিল। এগুলো মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না।
এ ব্যাপারে জানতে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) জগবন্ধু বর্মনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম বলেন, এমন হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।