পোলাও কিংবা বিরিয়ানির মতো খাবারের সঙ্গে সালাদ ও বোরহানি পরিবেশনের চল বহু আগে থেকেই। তাতে স্বাদে যেমন বৈচিত্র্য আসে, ভালো থাকে স্বাস্থ্যও। তবে যেকোনোভাবে তৈরি সালাদ কিংবা বোরহানিই কি উপকারী? এ প্রসঙ্গে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।
সালাদে থাকা কাঁচা সবজি, পাতা ও ফলমূলের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান নিঃসন্দেহেই স্বাস্থ্যকর। আর বোরহানির টক দই হজমসহায়ক। তবে সালাদ বা বোরহানি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, কী পরিমাণে গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কে গ্রহণ করছেন—এসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি, নাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
সালাদের কাঁচা সবজি, পাতা ও ফলমূল থেকে আপনি পাবেন আঁশ। আরও পাবেন নানা রকম ভিটামিন আর খনিজ উপাদান। শর্করাজাতীয় খাবার এবং অতিরিক্ত তেল–মসলায় রান্না করা খাবারের সঙ্গে সালাদ গ্রহণ করলে ওই বেলার খাবারে পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য আনা সহজ হয়।

সালাদে আঁশ থাকার একটা দারুণ সুবিধা হলো, তাতে আপনার পেট ভরবে অনেকটাই। তাই সালাদ খেলে অতিরিক্ত পরিমাণে পোলাও বা বিরিয়ানির মতো উচ্চ ক্যালরির খাবার গ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবেন সহজে। তবে অতিরিক্ত পরিমাণ সালাদ গ্রহণ করাও আবার ঠিক নয়। তাতে হজমে অতিরিক্ত সময় লেগে যেতে পারে। পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
তা ছাড়া মাংস, ডিম, মেয়োনেজ বা ক্রিম–জাতীয় উপকরণ দিয়ে যদি সালাদ তৈরি করা হয়, তাহলে সালাদটাই ভারী একটা পদ হয়ে যায়। পোলাও-বিরিয়ানির মতো ভারী পদের সঙ্গে যদি অন্যান্য ভারী পদ থাকে, তখন এ ধরনের ভারী সালাদ গ্রহণ করা ঠিক নয়। আর এমনিতেও মেয়োনেজ বা ক্রিম-জাতীয় উপকরণ কম খাওয়াই ভালো।

কোমল পানীয়ের চেয়ে বোরহানি নিঃসন্দেহে বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে এক গ্লাসের বেশি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত বোরহানি খেলে ক্যালরির মাত্রা বাড়ে, পেটেও অস্বস্তি হতে পারে। বোরহানি অবশ্যই হতে হবে পাতলা ধরনের। ভারী বা ক্রিম-জাতীয় বোরহানি স্বাস্থ্যকর নয়।