পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা ফেরেনি। দোকানপাট আংশিক খোলা, সরবরাহ কম আর ক্রেতা উপস্থিতিও সীমিত—সব মিলিয়ে বাজারে চলছে এক ধরনের স্থবিরতা।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজার, নয়াবাজার ও ধূপখোলা মাঠসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির কারণে অনেক ব্যবসায়ী এখনও গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ফলে বাজারে সবজি, মাছ ও মাংসের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।
যেসব দোকান খোলা রয়েছে, সেগুলোতেও পণ্যের সরবরাহ তুলনামূলক কম। সীমিত সরবরাহের কারণে কিছু পণ্যের দাম স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে শাকসবজি ও মাছের দাম বেড়েছে।
ক্রেতারা জানান, প্রয়োজনীয় সব পণ্য একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না।কোনো বাজারে সবজি মিললেও মাছ বা মাংসের দোকান বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ফলে একাধিক বাজারে ঘুরে কেনাকাটা করতে হচ্ছে তাদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে সবাই কাজে ফিরছেন। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাজার পুরোপুরি চালু হবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির মধ্যে বেগুন ৭০–১২০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, শসা ৫০–৬০ টাকা, গাজর ৪০–৫০ টাকা, বরবটি ও পটল ১০০ টাকা, ঝিঙ্গা ১২০ টাকা, ফুলকপি ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়া পেঁয়াজ ৪০–৫০ টাকা, রসুন ১৮০–২২০ টাকা এবং আদা ১৬০–১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারে সরু চাল ৭৫–৮০ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি। মসুর ডাল ১০০–১৮০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, মটর ডাল ১৬০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা (বোতল) এবং খোলা ২১০ টাকা, চিনি ১১০ টাকা কেজি।
মাছের সরবরাহ কম থাকলেও দাম প্রায় আগের মতোই রয়েছে। ছোট ইলিশ ১১০০ টাকা এবং মাঝারি ইলিশ ১৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। রুই-কাতলা ২৩০–৬৫০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ টাকা এবং অন্যান্য মাছ ৪০০ থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০–৮৫০ টাকা, খাসির মাংস ১৩০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ২৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
ধূপখোলা মাঠে বাজার করতে আসা সাদ্দাম হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, ঈদের পর কয়েকদিন বাজারে এমন অবস্থা থাকে। একটি বাজারে সব পণ্য পাওয়া যায় না। মেহমান আসায় একাধিক বাজার ঘুরে কেনাকাটা করতে হয়েছে তাকে।
নয়াবাজারের ক্রেতা ইমন সারোয়ার বলেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। আগে যে সবজি ৮০ টাকায় ছিল, এখন তা ১০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্তদের ওপর চাপ বাড়ছে।
রায়সাহেব বাজারের বিক্রেতা মো. মিলন জানান, বাজারে ক্রেতা কম এবং সরবরাহও সীমিত। তবে আগামী শুক্রবারের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
নয়াবাজারের মুদিদোকানদার মো. নিজামুদ্দিন বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা এখনও ফাঁকা। মানুষ ধীরে ধীরে ফিরছে, তাই বাজার জমতে আরও সময় লাগবে।
সূত্রাপুরের মাছ বিক্রেতা বিমল দাস বাংলানিউজকে বলেন, ঘাটে মাছ কম আসছে, আবার ক্রেতাও কম। তাই বেশি মাছ এনে ঝুঁকি নিতে চান না তারা।
প্রতিবছরের মতো ঈদের পর রাজধানীর বাজারে এমন চিত্র দেখা গেলেও ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আশা করছেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বাজারও আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।