নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বাদশা বুলবুল বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে।এ কারণে রিং (স্টেন্ট) বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত এই শিল্পীর হার্টে তিনটি রিং বসানো হবে।বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজেই ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
বাদশা বুলবুল জানান, কয়েকদিন আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।পরে চিকিৎসকের পরামর্শে এনজিওগ্রাম করালে হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এরপর দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘সুস্থ হয়ে আবার যেন সবার মাঝে ফিরতে পারি।’
সংগীত জীবনের শুরুটা হয়েছিল মায়ের কাছ থেকেই। ১৯৮১ সালে স্টেজ শোর মাধ্যমে সংগীতজীবন শুরু করেন বাদশা বুলবুল।
১৯৮৮ সালে মিল্টন খন্দকারের সুরে তার প্রথম অ্যালবাম ‘বুকের কাছাকাছি’ প্রকাশিত হয়।
পরে ১৯৯৫ সালে ‘সে যেনো চির সুখী হয়’ অ্যালবাম প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে ‘সেই কৃষ্ণচূড়ার গাছ আজও মরেনি, মরেছে মনের যত আশা’ গানটি তাকে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এই শিল্পীকে।
২০১৭ সালে প্রকাশিত তার মিউজিক ভিডিও ‘চাঁদমুখে চাঁদনী হাসি’ নতুন প্রজন্মের কাছেও তাকে পরিচিত করে তোলে এবং গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
ক্যারিয়ারে প্রায় ১৮টি একক অ্যালবাম এবং ১৫০টির বেশি মিক্সড অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছেন বাদশা বুলবুল। এছাড়া অসংখ্য চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেন তিনি।
বাদশা বুলবুলের গাওয়া উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সে ছিল আমার প্রিয়া’, ‘হৃদয়ের কবিতা’, ‘তবুও প্রেম আসে’, ‘ভাঙা মন’, ‘যে আমায় দুঃখ দিল’, ‘অন্তরে’, ‘ভুলে যাবো আমি তোমাকে’, ‘মোহনা’, ‘ভুলতে চেয়েছিলাম’, ‘এক জনমে হইলোনা পিরীতি’, ‘একদিন সন্ধ্যায়’, ‘পিরীতি আমার জন্য নয়’, ‘ব্যথার শ্রাবণ’, ‘আমি আসবোই’।