বিশ্বজুড়ে গ্যাস-তেলের দামে উল্লম্ফন; যুক্তরাজ্যে বাড়ল ১৪০ শতাংশ

বিশ্বজুড়ে গ্যাস-তেলের দামে উল্লম্ফন; যুক্তরাজ্যে বাড়ল ১৪০ শতাংশ

ইরানে হামলা-পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে শুরু হয়েছে তীব্র উল্লম্ফন। এর প্রভাব পড়েছে ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে, যেখানে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম এক লাফে প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।একই সময়ে গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি যদি কোনোভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। ভান্দা ইনসাইটসের প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হরি আল জাজিরাকে দেওয়া মন্তব্যে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অন্যান্য তেলের দাম ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তেলের দামের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির অবস্থা ও তা কতদিন অচল থাকে তার ওপর।

অন্যদিকে কাতারের প্রধান গ্যাসক্ষেত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘটনায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডাচ টিটিএফ ন্যাচারাল গ্যাস মার্কেটে এক পর্যায়ে গ্যাসের দাম ৭৪ ইউরোতে উঠে যায়, যদিও পরে কিছুটা কমে।

বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ক্ষেত্রগুলোর একটি রাস লাফানে হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

এতে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পাইকারি বাজারে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্সে (২.২৯ ডলার) পৌঁছে যায়, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো এখনো এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথ খুঁজছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চান না, তবে জ্বালানি সংকট তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।একই সঙ্গে কার্বন ট্যাক্স কমানো নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদও দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে ভোক্তা পর্যায়েও। 

সূত্র: আল জাজিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS