প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশি হস্তশিল্পের প্রসার ঘটাতে এ খাতে অর্থায়ন ও অন্যান্য সহায়তা বাড়াবে পিকেএসএফ। পাশাপাশি দেশীয় বাজার সম্প্রসারণেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মিরপুরে রপ্তানিমুখী হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান ‘তরঙ্গ’ পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম ফয়জুল হক এবং ‘তরঙ্গ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর ইয়াসমিন প্রমুখ।
জাকির আহমেদ খান বলেন, হস্তশিল্প বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় খাত। এ খাতকে সুসংগঠিত, রপ্তানিমুখী ও টেকসই শিল্পে রূপান্তর করতে হলে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত অপর্যাপ্ততা ও ব্র্যান্ডিং দুর্বলতার মতো সমস্যাগুলোকে কাটিয়ে উঠতে হবে। এ লক্ষ্যে বিশেষায়িত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে পিকেএসএফ।
ফজলুল কাদের বলেন, হস্তশিল্প খাতে নিয়োজিত নারীদের স্থানচ্যুতি ব্যয় নেই।তারা স্ব স্থানে থেকে উচ্চমানের রপ্তানিযোগ্য পণ্য প্রস্তুত করছেন এবং ভালো উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারে সমৃদ্ধি আনছেন। বাংলাদেশ থেকে হস্তশিল্প রপ্তানির পরিমাণ শতকোটি ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে আমরা হস্তশিল্প খাতে কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি লাগসইভাবে অর্থায়ন বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছি।
পিকেএসএফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ‘তরঙ্গ’-এর হস্তশিল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ৩২ হাজার নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
পাট, কচুরিপানা, হোগলাপাতা, তালের আঁশ, কলাগাছের আঁশ, বাঁশ, বেত, প্রাকৃতিক রং ইত্যাদি উপাদান ব্যবহার করে প্রস্তুতকৃত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ মোট আয়ের ৪০ শতাংশেরও বেশি এসব কর্মীর মজুরিতে ব্যয় হয়।
‘ন্যায্য বাণিজ্য’ ধারণার ভিত্তিতে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের ৫০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
বাংলাদেশে হস্তশিল্পের স্থানীয় বাজারের বার্ষিক আকার ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক হস্তশিল্পের বাজার ছিল প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বিশাল এ বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব নগণ্য।
২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের হস্তশিল্প রপ্তানি করেছে।দেশীয় হস্তশিল্প পণ্যের প্রধান ক্রেতা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো।