News Headline :
বাংলাদেশিদের চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে রাশিয়া সেই শিশুটি এখন বড় তারকা, ১২০ মিলিয়ন ডলারের মালিক নতুন চমক নিয়ে আসছেন আলিয়া সকালে কালো কিশমিশ খেলে যেসব উপকার হতে পারে ‘ভারতের জন্য এক নিয়ম, বাংলাদেশের জন্য আরেক’, ইংলিশ কিংবদন্তির ক্ষোভ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার নাটকীয় লড়াইয়ে জেভেরেভকে হারিয়ে ফাইনালে আলকারাস বিসিবি সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা: অ্যালেক্স মার্শাল চীনে মিয়ানমারের মিং পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর মার্কিন সামরিক নৌবহর এগোতেই যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ইরান চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা খুব বিপজ্জনক: ট্রাম্প
বাংলাদেশিদের চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে রাশিয়া

বাংলাদেশিদের চাকরির প্রতিশ্রুতিতে ইউক্রেন যুদ্ধে যেতে বাধ্য করছে রাশিয়া

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাশিয়ায় বেসামরিক কাজের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করতে বাধ্য করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের একজন মাকসুদুর রহমান বলেন, এক শ্রম দালাল তাঁকে বাংলাদেশে নিজের শহর ছেড়ে রাশিয়ায় যাওয়ার জন্য রাজি করায়। সেখানে তাঁকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী (জ্যানিটর) হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু মস্কো পৌঁছানোর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখসারিতে দেখতে পান।

এপি তিনজন বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলেছে, যাঁরা রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসতে পেরেছেন। তাঁরা জানান, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের রুশ ভাষায় লেখা কিছু কাগজে সই করতে বাধ্য করা হয়, যা পরে সামরিক চুক্তি বলে জানা যায়। এরপর তাঁদের একটি সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে নেওয়া হয়, যেখানে ড্রোন যুদ্ধকৌশল, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

মাকসুদুর রহমান এ কাজের প্রতিবাদ করলে একটি অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে এক রুশ কমান্ডার তাঁকে বলেন, ‘তোমার এজেন্ট তোমাকে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাকে কিনেছি।’

এই তিনজন জানান, তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সামনের সারির কাজে বাধ্য করা হয়। এর মধ্যে ছিল রুশ বাহিনীর আগে এগিয়ে যাওয়া, রসদ বহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহত ব্যক্তিদের দেহ উদ্ধার করা। আরও তিনজন নিখোঁজ বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও জানান, তাঁদের স্বজনেরা নিখোঁজ হওয়ার আগে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন।

রহমান বলেন, কাজ করতে অস্বীকার করলে তাঁদের ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হতো এবং মারধর করা হতো। তিনি বলেন, ‘ওরা বলত, “কাজ করছ না কেন? কাঁদছ কেন?” এই বলে লাথি মারত।’ সাত মাস পর পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন তিনি।

এপি যে নথিপত্র পর্যালোচনা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশি প্রতিবেদন এবং যুদ্ধের সময় পাওয়া আঘাতের ছবি। এসব নথি ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁদের অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়।

কতজন বাংলাদেশি এভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা এপিকে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে শত শত বাংলাদেশিকে তাঁরা দেখেছেন।

এ বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকার—কেউই এপির প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

কর্মকর্তা ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, একই ধরনের কৌশলে রাশিয়া ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও টার্গেট করেছে। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS