রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সেই যুবককে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিবকে কুপিয়েছিলেন।
এদিকে নিহত রাকিবুল ইসলাম রাকিবের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। মর্গ সূত্র জানায়, রাকিবের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।এছাড়া তার মাথা থেকে গুলির একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী দাবি করেছেন, একটি পণ্যের বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে তার স্বামীর সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ চলছিল।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, রাকিবকে হত্যার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তদন্তের স্বার্থে যুবকের নাম প্রকাশ না করে তিনি আরও বলেন, যুবককে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য। তিনি আশা করেন, শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে।
অপরদিকে দুপুরে নিহত রাকিবের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা। এরপর মৃতদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্তের আগে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রাকিবের ডান চোখের পেছনে চিপে একটি ছিদ্র এবং পিঠের বাম ও ডান পাশে দুটি ছিদ্র জখম রয়েছে। এছাড়া তার বাম কানের পেছনে, কপালে, বুকের ডান পাশে, পেটে ও পিঠে ধারালো অস্ত্রের বেশ কয়েকটি গুরুতর জখম রয়েছে। দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মর্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের নিহতের স্ত্রী হাবিবা আক্তার বলেন, তারা চানখারপুল এলাকায় থাকেন।রোববার ইফতারের পর রাকিবের বড় ভাই গুলিস্তান থেকে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তখন রাকিব ভাইকে চানখারপুলে আসতে বলেন।
সন্ধ্যা ৭টার পর রাকিব বাসা থেকে বের হয়ে বড় ভাইকে চানখারপুল থেকে নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় যান। সেখানে আড্ডা দেওয়ার সময় কেউ একজন তাকে ডেকে পাশে নিয়ে যায়। এরপর কয়েকজন মিলে গুলি করে ও কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।
রাকিবের স্ত্রীর আরও দাবি করেন, এক সপ্তাহ আগে রাকিবের কাছে ফোন এসেছিল একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন করে দেওয়ার জন্য। তারা রাকিবকে বিজ্ঞাপনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং এজন্য খিলগাঁও যেতে বলে। তবে অপরিচিত হওয়ায় রাকিব সেখানে যেতে রাজি হননি। তিনি পণ্যটি চানখারপুলে পাঠিয়ে দিতে বলেন। কিন্তু তারা তা পাঠায়নি।
এরপর আরেকটি নম্বর থেকে ফোন দিয়ে একইভাবে তাকে উত্তরা যেতে বলা হয়। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ফোনের ওপাশ থেকে রাকিবকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তার স্ত্রী।
এ ছাড়া প্রায় এক মাস আগে রাকিবের একটি কনটেন্টে মন্তব্য করা নিয়ে খুলনার এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্বামীর সঙ্গে তার কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে কারা এই হত্যার সঙ্গে জড়িত তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের সময় রাকিবের শরীরে ধারালো অস্ত্রের ১০টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার মাথা থেকে গুলির একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরেকটি গুলি শরীরের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নিহতের শরীরে মাথা ও পিঠে দুই স্থানে দুই রাউন্ড গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
গতকাল রোববার রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে জাতীয় শহীদ মিনার এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে (২৫) গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, রাকিবুল ইসলামের মাথায় গুলির চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার মাথার পাশাপাশি পিঠের বাম ও ডান পাশেও গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরের আরও কয়েকটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ময়নাতদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, শহীদ মিনার এলাকায় এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।