বরিশাল-৫ আসনের প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচনা অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর অংশগ্রহণের জন্য তাকে উঠে যেতে বলায় সাংবাদিকতার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত এবং গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী মনীষা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ফেসবুক লাইভে এ প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন তিনি।
বাসদের বরিশাল জেলা কমিটির সমন্বয়ক ও প্রার্থী মনীষার অভিযোগ, অনুষ্ঠান পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট চ্যানেলটি পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এক ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রশ্রয় দিয়েছে।
টেলিভিশনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ রাত ৮টায় ‘জনতার দরবার’ নামক ওই প্রোগ্রামে আমাকে বলা হয়েছিল, প্রথম ১৫ মিনিট আলোচনা করতে হবে, তারপরে আবার আলোচনা করে করতে হবে। বিষয়টি খুব স্বাভাবিকভাবে আমি নিয়েছি, কারণ মাঝে মাঝে এভাবে পর্ব বা সেশন হয়।
তিনি বলেন, বরিশাল-৫ আসনের চরমোনাইয়ের প্রার্থী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম) ওখানে আসার কথা ছিল এবং সেই কারণে ১৫ মিনিট পরে হঠাৎ করে আমাকে পেছনে যেতে বলা হলো। তখন আমি বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলাম এবং আয়োজকদের বললাম বিষয়টি পরিষ্কার করে বলার জন্য।উত্তরে তারা বললেন, প্রত্যেক পর্বে অতিথি এখান থেকে যাবেন এবং পরে আবার যুক্ত হবেন এরকম তথ্য দিলেন। যদিও পরে ওখান থেকে কোনো অতিথি উঠে যায়নি দেখে বুঝতে পারলাম ওই তথ্যটি সঠিক ছিল না।
ডা. মনীষা বলেন, আমি পরে বুঝতে পারলাম চরমোনাইয়ের যিনি ক্যান্ডিডেট তিনি এখানে আসবেন এবং তিনি সম্ভবত কোনো নারী মঞ্চে থাকলে তার সঙ্গে বসতে চাচ্ছেন না, সেই কারণে ওই চ্যানেল থেকে আমাকে কিছুটা উঠে যেতে বলা হয়েছে।
চ্যানেলে কর্তৃপক্ষের এমন ঘটনা সাংবাদিকতার নৈতিকতার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি খুবই অসৌজন্যমূলক ও অনভিপ্রেত আচরণ হিসেবে আখ্যা দেন।
এছাড়া একজন মানুষ জনপ্রতিনিধি হওয়ার আশায় মঞ্চে উঠে কোনো নারীর সঙ্গে একসাথে আলোচনার বিষয়টি ভালোভাবে নিতে না পারলে ৫১ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্ব কেমন করে করবেন, এমন প্রশ্নও জনগণের কাছে রেখেছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, সর্বোপরি এই টকশোতে এ ধরনের একজন অতিথি আসবেন এবং চ্যানেল থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানলে আমরা আসলে এখানে হয়তো অংশগ্রহণ করতাম না। যারা আলোচনা শুনতে বসেছিলেন, তারা হয়তো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
বাসদের এই প্রার্থী বলেন, যারা আসলে নারীদের উপস্থিতিটাই একটা অস্বস্তিকর কারণ মনে করেন, নারীদের সমাজে চলাফেরা করাটা অস্বস্তিকর কারণ মনে করেন, তারা আসলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেমন করে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন সেটাই প্রশ্ন।
এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।