দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ সব বাণিজ্য সংগঠনকে পেশাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো পুতুলের মতো আচরণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘ইমপ্লিকেশনস অব এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ফর ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি: বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো চুপ ছিল, এমনকি হাততালি দিয়েছিল।
এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা ভুল ছিল।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের যখন যে ভূমিকা রাখার কথা ছিল, তখন তারা সেই ভূমিকা পালন করেনি। অর্থ পাচারের সময়ও তারা চুপ ছিল। এভাবে তারা পুরো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।তারা অর্থ পাচারের বিষয়ে সরকারকে থামতে বলেনি, প্রতিবাদ করেনি। ব্যবসায়ীদের এমন আচরণে শুধু অর্থনীতির ক্ষতি নয়, গণতন্ত্রও শক্তিশালী হয় না।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকের সুদহার ‘নয়-ছয়’ করার সংস্কৃতি আর ফিরবে না বলেও মন্তব্য করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।
দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ও এলডিসি থেকে উত্তরণ একই সঙ্গে হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতির উন্নয়নের জন্যই স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ হওয়ার প্রয়োজন।
ছোট সুবিধার জন্য আমরা বড় সুবিধা হাতছাড়া করতে পারি না।
আমানতকারীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরিয়ে আনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় গোলটেবিলে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ, পিকার্ড বাংলাদেশের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অমৃতা মাকিন ইসলাম ও প্লামি ফ্যাশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবিব।