News Headline :
বাবা-মেয়ের সিনেমা ‘কিং’, কাজের অগ্রগতি কতদূর? ছাগল–কাণ্ডে আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়েছে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে অমিতাভ! এখন কেমন আছেন অভিনেতা? কেন সারা বছর সানগ্লাস ব্যবহার জরুরি কাবলি ছোলার উপকারিতা ফাইনালের হাফটাইম শোয়ে কত টাকা পেলেন শাকিরা, বিবার, ম্যাডোনারা – বিশ্বকাপ ফুটবল বাগদানের পর পাকিস্তানে, হবু বরের দেশে নিয়ে রহস্য বাড়ালেন নীহা! শৈশবের স্বপ্ন থেকে বিশ্বরেকর্ড, এবার ঘরের মাঠে স্বর্ণ চান জশ কের ‘যতদিন ইচ্ছে খেলবে মেসি’—আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অবসর জল্পনা ওড়ালেন স্কালোনি ফিফার প্রতি অসন্তোষে বিশ্বকাপ ফাইনালই বয়কট করলেন উয়েফা সভাপতি
শাহরুখের পর্দার চরিত্র ব্যক্তিগতভাবে মানতে চাননি প্রীতি!

শাহরুখের পর্দার চরিত্র ব্যক্তিগতভাবে মানতে চাননি প্রীতি!

নির্মাতা করণ জোহরের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী সিনেমার মধ্যে অন্যতম ‘কাভি আলবিদা না কহনা’। ২০০৬ সালে মুক্তি পায় এটি। নিউ ইয়র্ক শহরের পটভূমিতে দাঁড়িয়ে এটি হিন্দি সিনেমার সেই অস্বস্তিকর এলাকায় ঢুকে পড়েছিল, যেখানে সাধারণত ক্যামেরা ঘোরাতে ভয় পেত বলিউড -অসুখী দাম্পত্য, সম্পর্কের ভেতরের শূন্যতা, আর সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য সীমার বাইরে গিয়ে সঙ্গী খোঁজার আকাঙ্ক্ষা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে করণ জোহর নিজেই জানিয়েছেন, এই সিনেমার আবেগঘন গল্প মানসিকভাবে ভীষণ প্রভাব ফেলেছিল অভিনয়শীল্পীদের ওপর।

‘কাভি আলবিদা না কহনা’ সিনেমার কেন্দ্রে রয়েছে দেব (শাহরুখ খান) ও মায়া (রানি মুখার্জি)। দেবের স্ত্রী রিয়া (প্রীতি জিন্টা) এবং মায়ার স্বামী ঋষি (অভিষেক বচ্চন)। দু’টি দাম্পত্যই ভেতর থেকে অপূর্ণ, নিঃসঙ্গতায় ভরা। হঠাৎ এক আকস্মিক সাক্ষাৎ দেব ও মায়াকে টেনে নিয়ে যায় এক অপ্রত্যাশিত ঘনিষ্ঠতার দিকে।শারীরিক ও মানসিক দুইই। এই সম্পর্ক যেমন তাদের মনের ক্ষত সারায়, তেমনই নৈতিক দ্বন্দ্বেও ফেলে।

করণ জোহরের দৃষ্টিতে, এই সম্পর্ক কোনও কেলেঙ্কারি নয়। বরং এটি জন্ম নেয় অবহেলা, ভঙ্গুরতা আর অপূর্ণ প্রত্যাশা থেকে, যা বাস্তব জীবনের বহু দাম্পত্যেরই অপ্রকাশিত সত্য।

করণ সম্প্রতি জানান, সিনেমা নির্মাণের সময় প্রীতি জিন্টার পক্ষে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কীভাবে শাহরুখ খানের চরিত্র এমন একজন নারীকে ঠকাতে পারে। করণ বলেন, ‘ও বিষয়টা খুব ব্যক্তিগতভাবে নিচ্ছিল। আমি ওকে এক পাশে নিয়ে হাঁটতে বেরোই। ওকে বলি, এটা প্রীতি জিন্টা নয়, রিয়া। ঘটনাটা রিয়ার সঙ্গে ঘটছে।’

তবে শুধু প্রীতি নন, ছবির ভারী ও জটিল আবেগ সবাইকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল। করণ আরও বলেন, আমার মনে আছে, একটা সময় অভিষেক ভেঙে পড়েছিল। সিনেমায় একটা আবেগপ্রবণ দৃশ্য ছিল, যেখানে ও একেবারে কেঁদে ফেলেছিল। আবার এমন মুহূর্তও ছিল, যখন দেখতাম রানি চুপচাপ, বিষণ্ণ হয়ে বসে আছে। তখন বুঝেছিলাম, সবাই নিজের নিজের মাথার ভেতর দিয়ে কিছু না কিছু লড়াই করছে। কারণ সিনেমাটা এমন সব আবেগী ও সামাজিক বাস্তবতার কথা বলে, যেগুলো মানুষ অনুভব করে, কিন্তু মুখে আনতে চায় না। পুরো অভিজ্ঞতাটাই ছিল ভীষণ অস্থির, তোলপাড় করা।

মুক্তির পর ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ দর্শকদের স্পষ্টভাবে দু’ভাগে ভাগ করে দেয়। কেউ সিনেমার সাহস আর গভীর আবেগের প্রশংসা করেন, আবার কেউ দাম্পত্য ও বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করায় সিনেমাটিকে সমালোচনার মুখে ফেলেন।

তবু সময়ের সঙ্গে এক কথা পরিষ্কার, ‘কাভি আলবিদা না কহনা’ বলিউডের প্রথম দিকের মূলধারার সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা বৈবাহিক ভাঙনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে সৎ ও সংবেদনশীলভাবে বিশ্লেষণ করার সাহস দেখিয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS