News Headline :
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা জারি করেছে এনবিআর সেরা প্রতিবেদনের পুরস্কার পেলেন বাংলানিউজের এসএমএ কালাম ‘১১ দলীয় জোট’র প্রার্থী ঘোষণা অনুষ্ঠানে আসেনি ইসলামী আন্দোলন জাইমা রহমানের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম আইডি জানালো বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের দেড় ঘণ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ ৪ ঘণ্টা পর গাবতলী টেকনিক্যাল মোড়ে যান চলাচল স্বাভাবিক বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের মেয়াদ বাড়ল দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষে পোনা আমাদানির নতুন ও বিদ্যমান অনুমোদন স্থগিত রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হবে না: বিইআরসি চেয়ারম্যান পুরোনো বন্দোবস্তের ধারক গোষ্ঠীর পুনরুত্থান ঘটেছে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হবে না: বিইআরসি চেয়ারম্যান

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হবে না: বিইআরসি চেয়ারম্যান

চলতি জানুয়ারি মাসে দেশের এলপিজি অপারেটররা যেন সর্বোচ্চ পরিমাণে এলপিজি আমদানি করতে পারেন সে অনুরোধ করেছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।  

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ও ‘এনার্জি ও পাওয়ার’ সাময়িকীর সহযোগিতায় এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

‘রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জেস ইন দ্য এলপিজি মার্কেট’ শীর্ষক বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম তামিম। 

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনার্জি ও পাওয়ার সম্পাদক মোল্লা এম আমজাদ হোসেন।

জালাল আহমেদ বলেন, অনেক অপারেটরের সঙ্গে কথা বলেছি তারা স্পট মার্কেট থেকে এলপিজি আনার চেষ্টা করছেন। এ মাসে যদি ১ লাখ ৫০ হাজার টন এলপিজি চলে আসে তাহলে বর্তমান সংকট অনেকটা কেটে যাবে। আর অপারেটররা যদি ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানিও নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে আসছে রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট থাকবে না।

অনুষ্ঠানে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজি নীতিমালা সংস্কার বিষয়ে (বিইআরসির আতওাভুক্ত বিষয়) আমরা বিশ্লেষণ করছি এবং যেখানে যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী সংস্কার করবো।নভেম্বরে ১৭০টি এবং ডিসেম্বরে ২৯টি জাহাজের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এলপিজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। বিশ্বের বড় আমদানিকারকদের জন্য আমাদের অপারেটরদের মতো ছোট আমদানিকারকরা আমদানির সুযোগ কম পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষের তিন মাসের তুলনায় ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসে ১ লাখ ৬৩ হাজার টন কম এলপিজি আমদানি হয়। এই সময় লিমিট না থাকার পরও বেশ কিছু অপারেটর তাদের সক্ষমতার চেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করে এবং এজন্য তাদের আটকানো হয়নি।

এলপিজি অপারেটরদের বিইআরসিতে ১৯টা কাগজ জমা দিতে হয়। আমি চেষ্টা করেছি একে ৪টিতে নামিয়ে আনার। এলপিজিতে লাইসেন্স ভোগান্তি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আমরা বসবো।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ম তামিম বলেন, এলপিজি খাতে সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এলপিজি খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে একাধিক সংস্থা থেকে লাইসেন্স নিতে হয়।ব্যবসা করতে গিয়ে যদি এতগুলো জায়গা থেকে পারমিশন নিতে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় তবে এটি এই খাতের বড় ধরনের বাধা। এই খাতের জন্য মোট ২৬টি আলাদা অনুমতি নিতে হয়। বছরে একটি অপারেটরের এলপিজির লাইসেন্স ও অন্যান্য ফি বাবদ দেড় কোটি টাকার ওপর লাগে। এটিও এ খাতে বড় ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ। এলপিজি অপারেশনে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে লিকেজ ইস্যুতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটি নজরদারিতে রাখা।

তিনি বলেন, এলপিজি নিয়ে সিঙ্গেল রেগুলেটরি সংস্থার ব্যবস্থা করতে হবে। এলপিজির জন্য বিশেষ কোনো নীতিমালা নেই। এক সময় দেশে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টন এলপিজি আমদানি হতো। এখন ১৬ লাখ টন পর্যন্ত আসছে। এটি বড় একটি ব্যবসা খাত হতে যাচ্ছে। এজন্য বিশেষ নীতিমালা থাকতে হবে। লিকেজ পরীক্ষা প্রতিবছর হলেও লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকমানের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতি পাঁচ বছর পর দেওয়া যেতে পারে। নীতিমালা সংস্কার না করা হলে অনেক ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন। এই ব্যবসায় প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। এই ব্যবসা ভালোভাবে চালাতে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হবে। কিন্তু এলপিজি নিয়ে ব্যবসায়ীরা এত ভোগান্তিতে পড়লে তা এই খাতে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক হবে না। যেহেতু আমাদের প্রাকৃতিক গ্যাস কমে যাচ্ছে এজন্য এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এই মুহূর্তে অনেক খাতেই আমাদের বিকল্প জ্বালানি হচ্ছে এলপিজি।

জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব এ কে এম ফজলুল হক বলেন, এলপিজি খাতে এখন তিনটি সমস্যা। এর দাম, এর নিরাপত্তা ইস্যু এবং মার্কেট ডিসওর্ডার। বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৬টি অপারেটর এলসি খুলে এলপিজি আমদানি করতে পারছে। এ খাতে ভালো ব্যবস্থাপনার জন্য এলপিজির জন্য বিশেষায়িত নীতামালা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

লোয়াব প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, লোয়াবের ৫ জন সদস্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এক বছর আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। এক বছর পরে মন্ত্রণালয় থেকে জানালো হলো নীতিমালায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আসে না। বর্তমানে এলপিজির সংকট ও দাম বৃদ্ধির জন্য লোয়াবকে দায়ী করা যাবে না।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, এলপিজি ৪০ হাজার কোটি টাকার শিল্প। এর গ্রাহক সংখ্যা দেড় কোটি। কিন্তু এত বছর পরেও একে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে পরিণত করতে পরিনি। ক্যাবের পক্ষ থেকে আমি দাবি তুলেছি একে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে পরিণত করার জন্য। এতে এলপিজি খাতকে আরও সুশৃঙ্খল করে আনা যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুজ্জামান সরকার, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. আবুল হাসানসহ এলপিজির বিভিন্ন অপারেটর।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS