বিপিএলের এবারের আসরে অবশেষে জয়ের মুখ দেখল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় দলটি। ম্যাচের শেষদিকে দুর্দান্ত বোলিংয়ে পার্থক্য গড়ে দেন পেসার হাসান মাহমুদ।
টসে জিতে রংপুর রাইডার্স আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী শুরুটা পায় মোটামুটি। ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকারের জুটিতে আসে ২৫ রান। দিপু ৮ বলে ১৪ রান করে ফিরলেও তিন নম্বরে নামা হাবিবুর রহমান সোহান আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে গতি এনে দেন ইনিংসে।
পাওয়ারপ্লের পুরোটা সময় দাপট দেখান সোহান।বেশ কয়েকটি বাউন্ডারিতে ১৬ বলে ৩০ রান করে ৬৬ রানের দলীয় স্কোরে নোয়াখালীকে পৌঁছে দেন তিনি। তবে পাওয়ারপ্লে শেষের পরপরই থামেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
অন্য প্রান্তে সৌম্য সরকার কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করেন। ২৭ বলে ৩১ রান করে তিনি আউট হলে নোয়াখালীর রান তোলার গতি কমতে থাকে।
ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব নেন জাকের আলী অনিক। যদিও শেষদিকে বড় শট খেলতে না পারায় তার ৩৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খুব বেশি ব্যবধান গড়ে দিতে পারেনি।
এক পর্যায়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নোয়াখালী। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় তারা। ইনিংসের শেষ তিন বলে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, জহির খান ও বিলাল সামিকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।রংপুরের হয়ে মৃত্যুঞ্জয় ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ৩টি করে উইকেট, খুশদিল শাহ পান ২টি।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরের শুরুটাও আশানুরূপ হয়নি। ওপেনার ডেভিড মালান ও লিটন দাস দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। পাওয়ারপ্লে শেষে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৯ রান।
এরপর তাওহীদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ ধীরে সুস্থে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন। ইফতিখার ৩১ বলে ৩৭ রান করে আউট হলে চাপ বাড়তে থাকে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও বড় অবদান রাখতে ব্যর্থ হন।
হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালালেও ২৮ বলে ২৯ রান করে আউট হন তিনি। শেষদিকে খুশদিল শাহ কিছুটা ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। তবে শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার থাকলেও হাসান মাহমুদের নিখুঁত ইয়র্কার ও চাপে ভেঙে পড়ে রংপুর।
শেষ ওভারে প্রথম বলেই খুশদিলকে ফিরিয়ে দেন হাসান। এরপর মৃত্যুঞ্জয়কেও আউট করে ম্যাচ পুরোপুরি নোয়াখালীর দিকে ঘুরিয়ে দেন এই পেসার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৩৯ রানেই থামে রংপুর রাইডার্স।
এই জয়ে টুর্নামেন্টে প্রথম পয়েন্ট তুলে নিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক হয়ে থাকলেন ডেথ ওভারে ঠান্ডা মাথার বোলিং করা হাসান মাহমুদ।