আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

আশুলিয়ায় নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি উদ্‌যাপনের উদ্দেশে ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা। শেকড়ের টানে ছুটছেন রাজধানীসহ এর আশেপাশের মানুষ।আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় সড়ক অনেকটাই সংকুচিত এ মুহূর্তে। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কে নিয়ন্ত্রণহীন থ্রি-হুইলার। তাই এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়াবে কয়েকগুণ। ঈদযাত্রায় সাভারের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়কে যানজট আর ভোগান্তির শঙ্কায় উত্তরের ১৭ জেলার জনপদ।  

তবে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোগান্তি সহনীয় মাত্রায় রাখতে সড়ক সংস্কারসহ সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বাইপাইল থেকে আশুলিয়া বেড়িবাঁধ পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় কোথাও সরু হয়েছে সড়ক, কোথাও ডাইভারশন ও কোথাও রাখা হয়েছে কাজের সরঞ্জাম। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের একই চিত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানী ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের সতেরটি জেলার মানুষের ঈদে বাড়ি ফেরার অন্যতম পথ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের ইপিজেড এলাকায় নিত্যদিনের সঙ্গী যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান থাকায় সরু হয়ে যাওয়া এই সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। একই চিত্র রাজধানীর আব্দুল্লাপুর থেকে বাইপাইল সংযোগ স্থাপনকারী টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড মহাসড়কেরও। একে তো সড়কের এমন অবস্থা তার ওপর নিয়ন্ত্রণহীন থ্রিহুইলারের বেপরোয়া চলাচল। এই দুই মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যানজট ভোগান্তি কয়েকগুণ বাড়াবে বলে ধারণা যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক ব্যবহার করে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইলে এসেছেন পোশাকশ্রমিক শহিদুল ইসলাম। তিনি বাংলানিউজকে বলেন,  আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইলে আসতে দেখলাম রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। যার জন্য ৪০ মিনিটের রাস্তা আসতে আমার দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। উত্তরবঙ্গের ব্যস্ততম রাস্তা হচ্ছে নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়ক। ঈদের সময় ৭/৮ ঘণ্টার রাস্তা ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যেহেতু এই সড়কেই আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান, এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। সেহেতু এবার উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনসহ কর্তৃপক্ষ যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেয় তাহলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করি।  

ঈদুল ফিতরে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবেন পোশাকশ্রমিক নুর মোহাম্মদ মোস্তফা। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি বছরই ঈদযাত্রায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদে বাড়ি ফেরার সময় সড়কে যানজটে ৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়। এবার সড়কের যেখানে সেখানে ডাইভারশন, সড়কে কাজের ভারী সরঞ্জামাদি ফেলে রাখাসহ মূল পয়েন্টে চলমান কাজ। এতে প্রতি বছরের তুলনায় এবার যানজটের মাত্রা বাড়বে নিশ্চিত। আমরা ভোগান্তিহীন ঈদযাত্রা চাই। এতে কর্তৃপক্ষরা সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।

বাসচালক রমজান বলেন, এখনই সকালে যানজট থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ৪০ মিনিট বা তারও বেশি। ঈদে কি ঘটবে তা আল্লাহ ভালো জানেন। এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হবে। এছাড়া সড়কে যে হারে থ্রি-হুইলার বেড়েছে তা তো দেখাই যায়। তারা তো উল্টোপথে সড়ক রীতিমতো বন্ধ করে রাখে। থ্রি-হুইলারের জ্বালায় এখন সড়কে চলাচল করাই যেন দায়। যানজটের অন্যতম কারণ এই থ্রি-হুইলারও। প্রশাসনসহ সকল কর্তৃপক্ষকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অতীতের তুলনায় আরো বেশি আন্তরিক হতে হবে।  

জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। হাইওয়ে থানার পরিদর্শক  (ওসি) সওগাতুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, যখন পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হয়ে যাবে কিংবা অন্যান্য পেশার লোকজন ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য গ্রামে ফিরবেন তখন মহাসড়কে স্বাভাবিকভাবেই চাপ সৃষ্টি হবে। এবার ঈদে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে। রাস্তায় কিছু উন্নয়নমূলক কাজ চলমান থাকায় এবার একটু চাপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলমান রয়েছে, যে কারণে মহাসড়ক কোথাও কোথাও সরু হয়েছে। পিলার স্থাপনের কারণে সড়ক সরু হয়ে গেছে। এজন্য আমাদের বাড়তি কিছু সতর্কতা থাকবে। আমরা টাঙ্গাইলগামী যানবাহনগুলো নবীনগর থেকে লেফট টার্ন করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই দিয়ে বাইপাস করে দেব। আর নবীনগর আশুলিয়ার যাত্রীদের জন্য নবীনগর অথবা বাইপাইল থেকে যেসব যাত্রী গন্তব্যে যাবেন সেসব যাত্রীদের যানবাহনগুলো নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়ক ব্যবহার করে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি যেমন প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল যতদূর সম্ভব নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়ক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আরিচাগামী যানবাহনগুলোকে হেমায়েতপুর দিয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর হয়ে বাইপাস করে দেওয়া হবে। থ্রি-হুইলারের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সড়কে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশসহ সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে করে ঘরে ফেরা মানুষেরা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন।  

এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন না হলেও যাতে সহনীয় পর্যায়ের ভোগান্তি হয় সেই বিষয়টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে, জানান আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিকল্প পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।  

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, সামনে দুটো উৎসব রয়েছে। যে কারণে জনগণের মুভমেন্ট কিন্তু অনেকাংশে বেড়ে যাবে। সড়কে আমাদের একটি উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, উন্নয়নমূলক কাজ যখন আপনি হাতে নেবেন তখন স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় একটু হলেও ব্যাঘাত ঘটবে। উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে জনগণের ভোগান্তিটা আমরা নির্মূল করতে পারব না। কাজ শেষ হলে ভোগান্তি নির্মূল হবে। যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি আশা করি যাত্রা উপলক্ষে হাতে নেওয়া আমাদের সমস্ত কাজ ঈদযাত্রার আগেই শেষ হয়ে যাবে। আমরা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন বলতে পারব না, সহনীয় পর্যায়ের ব্যাঘাত ঘটিয়ে যাতে যানবাহন চলাচল করতে পারে সেই পর্যন্ত আমরা চেষ্টা করব।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023 EU BANGLA NEWS