সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলের শীর্ষ ধর্মীয় কর্মকর্তা আহমাদ বদরুদ্দিন হাসুনকে যুদ্ধকালীন অপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।
সোমবার দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় দেন।আদালত হাসুনকে সহিংসতায় উসকানি, হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন।
২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্বে থাকা হাসুনকে ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।এর এক মাস আগে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। গত ২৫ জুন তার বিচার শুরু হয়।
বিচারে বিভিন্ন অভিযোগে তাকে একাধিক মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান ঘৃণা ছড়ানো এবং দেশের পরিস্থিতির অবনতিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগে হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।হত্যাকাণ্ডে উসকানির দায়ে তাকে আরও ২০ বছর এবং হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিচারক বলেন, হাসুন এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আসাদ সরকারের সামরিক ও নিরাপত্তা অভিযানকে ধর্মীয় বৈধতা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল।
হাসুনের বক্তব্যে বেসামরিক এলাকায় ব্যবহৃত ‘ব্যারেল বোমা’র সমর্থন ও বৈধতা দেওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এসব হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে আদালত উল্লেখ করেন।
আদালতের মতে, হাসুন ধর্মীয় বক্তৃতায় সিরিয়ার সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের সরকারবিরোধীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। পাশাপাশি সিরিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়ে পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তিনি সেনাবাহিনীকে গোলাবর্ষণের স্থানগুলো ‘ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন’ করার আহ্বান জানান এবং ইদলিবের বাসিন্দাদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার হুমকিও দিয়েছিলেন।
অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় হাসুনকে কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমার আওতায় না রাখার সিদ্ধান্তও দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার অর্থ-সম্পদ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই রায় এমন সময়ে এলো, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও পাঁচ নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সাবেক শাসকের দুই চাচাতো ভাই আতিফ নাজিব ও ওয়াসিম আল-আসাদকেও সশরীরে বিচারের পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা