সিলেটে দুর্ঘটনাকবলিত দুই বাস ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিলেট সার্কেল বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন সাময়িক স্থগিত চেয়ে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়।এর পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রেশন সাময়িক স্থগিত করা হয়।
বিআরটিএ সিলেটের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আব্দুর রশিদ বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার (৮ আগস্ট) ওই দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করতে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে।চিঠিতে উভয় বাসের কর্তৃপক্ষকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নোটিশ জারি করার জন্য সুপারিশ করা হয়। নির্দেশনা মেনে হাজির হয়ে জবাব না দিলে উভয় বাসের রেজিস্ট্রেশন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে।
তিনি বলেন, দুই বাসের কর্তৃপক্ষকে ঢাকায় বিআরটিএ ভবনে সংশ্লিষ্ট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির হয়ে তাদের জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশ দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি মাঠে নেমেছে।তারা দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে সুপারিশ ঢাকায় পাঠাবে।
সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আব্দুর রশিদ বলেন, হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দরখাস্ত আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শনিবার থেকে বিআরটিএ সিলেট অফিসে দরখাস্ত নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে দাবিদাররা দরখাস্ত করতে পারবেন।
অনুমোদন নেই স্লিপার বাসের
দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনকে দায়ী করা হচ্ছে। স্লিপার বাসটি আরেকটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গিয়ে বিপরীতমুখী গাড়ির লাইনে এসে দুর্ঘটনা ঘটায়।
এ বিষয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, স্লিপার বাসের কোনো রোড পারমিট নেই। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। মোবাইল কোর্টের অভিযানের সময় তাদের জরিমানা করা হয়। এরপরও এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। এটি বন্ধেও সুপারিশ রয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর খাসিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৯ জন নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।