রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলের জনপ্রিয় অবকাশ কেন্দ্র গেলেনঝিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩ জন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন।
সোমবার (৩ আগস্ট, ২০২৬) রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।
হামলাটি ঘটেছে গেলেনঝিক রিসোর্ট এলাকার অন্তর্গত আরখিপো-ওসিপোভকা ছুটির গ্রামের একটি ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে।রাশিয়া জানিয়েছে, এটি বেসামরিক নাগরিকদের উপর একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা ছিল।
রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন ব্যস্ত সৈকত এলাকায় আছড়ে পড়ছে এবং এর সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটছে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কোন্দ্রাতিয়েভ ঘটনাটিকে ট্র্যাজেডি বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ১৭ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, আজ যা ঘটেছে তা কিয়েভ শাসনের দ্বারা বেসামরিক জনগণের ওপর একটি ইচ্ছাকৃত আক্রমণ, যার সঙ্গে সামরিক অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে একটি বিশেষায়িত চিকিৎসা দুর্যোগ দল পাঠানো হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসকে (TASS) দেওয়া বিবৃতিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছেন।
ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার মতো ইউক্রেনও বলে থাকে তারা ২০২২ সালে মস্কো কর্তৃক শুরু হওয়া পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি হলিডে ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ১১ জন, যার মধ্যে ৪ জন শিশু, হত্যার অভিযোগ এনেছিল।
অন্যদিকে রাশিয়াও কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বারবার হামলা চালিয়েছে, যাতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে, বিশেষ করে তেল শোধনাগার এবং ই-কমার্স গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে, যাকে তারা রাশিয়ানদের যুদ্ধের মূল্য অনুভব করানোর প্রচারণা হিসেবে বর্ণনা করছে।