থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির (বিটিএস) রক্তদাতা সম্মাননা-২০২৬ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
থ্যালাসেমিয়া সমিতির নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আপনারা আমার কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য একটি দরখাস্ত দিবেন, যতটুকু পারা যায় আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।
রক্তদাতাদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন ইয়াং ছেলে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য ৪১ বার রক্ত দিয়েছেন এবং অন্য আরেকজন ৩৮ বার রক্ত দিয়েছেন। বারবার রক্ত দিয়ে রোগীদের জীবন বাঁচানোর এই মহান উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করা কোনো খারাপ বিষয় নয়। কোনো দম্পতির দুইজনই যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক হয় তবে অনাগত সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় রোগী হয় বা হতে পারে।আমরা যদি সচেতন হয়ে প্রাক-বৈবাহিক এই স্ক্রিনিং ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপে যাই, তবে এই ঘাতক ব্যাধি থেকে পুরো জাতিটাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী স্বাস্থ্য ভাবনার স্মৃতিচারণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান যখন গ্রাম-গঞ্জে সারাদেশে ছুটে যেতেন, সঙ্গে করে ডাক্তার নিয়ে যেতেন। সেইসঙ্গে তিনি মানুষকে সচেতন করার জন্য খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলতেন। যাতে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং সুস্থ জাতি গঠন করা যায়।
তিনি বলেন, পিজ্জা, বার্গার, চিকেন ফ্রাই ও ফার্মের মুরগি খেতে খেতে আমরা নিজেদের শরীর ও স্বাস্থ্য শেষ করে দিচ্ছি। এসব খাবারের কারণেই ক্যানসার ও কিডনিসহ নানা জটিল রোগ হচ্ছে। তাই সবাইকে সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
রোগ প্রতিরোধে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রাম-গঞ্জে ক্যানসার, কিডনি ও লিভার ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন। কারণ প্রথাগত চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই শ্রেয়।
অনুষ্ঠানে রক্তদাতা ব্যাক্তি ও রক্তদান কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সেচ্ছায় রক্তদাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ও ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও বিটিএসের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।