ভারতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির

ভারতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচ পার্টির

ভারতে সাম্প্রতিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ফের দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আন্দোলন স্থগিতের সময় কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।বিশেষ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা বন্ধ এবং দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সিজেপি।

সোমবার (২৭ জুলাই) বিভিন্ন ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, সরকার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সমঝোতার শর্ত থেকে সরে এসেছে।

তার দাবি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থী ও সংগঠনের কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান এবং মামলা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নতুন করে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

কী নিয়ে শুরু হয়েছিল আন্দোলন?

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (NEET) প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম, যুব বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে এটি শুধু পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষা সংস্কার ও সরকারি জবাবদিহিতার দাবিতে দেশব্যাপী এক বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়।

সরকারের পদক্ষেপ

ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের কথাও জানান। এর আগে আন্দোলনের চাপের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সিজেপি আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।

কেন আবার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি?

সিজেপির দাবি, সরকার শিক্ষা সংস্কারের ঘোষণা দিলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। সংগঠনটির মতে, এ কারণে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা কার্যত লঙ্ঘিত হয়েছে।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট থেকে শুরু হলেও এটি যুবসমাজের কর্মসংস্থান, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার দাবির প্রতীক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে এবং বিরোধী দলগুলোকেও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে আন্দোলনটি দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখার চেষ্টা করছে সিজেপি।

এদিকে সরকার এখনো সিজেপির সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। নতুন করে আন্দোলন শুরু হলে তা শিক্ষা সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2026 EU BANGLA NEWS