নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার মতো স্বাধীন আইনি ক্ষমতা তার নেই। যদিও এর আগে তিনি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
তবে নতুন এক ভিডিও বার্তায় মামদানি বলেন, ‘এখন পরিষ্কার যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা আমাদের নেই।’
মামদানির এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত।
২০২৪ সালে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক সফরে এলে তাকে আটক করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আগে আলোচনা করেছিলেন মামদানি।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত পর্যালোচনার পর তিনি জানান, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে এমন কোনো ক্ষমতা তার নেই।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হওয়ার পেছনে একাধিক আইনি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য নয়। ফলে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার কোনো বাধ্যবাধকতা মার্কিন আইনে নেই।
দ্বিতীয়ত, দুই হাজার দুই সালের ‘আমেরিকান সার্ভিস-মেম্বারস প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে হস্তান্তর করতে পারে না। এই আইন আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তৃতীয়ত, দায়িত্বে থাকা বিদেশি সরকারপ্রধানরা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষা ভোগ করেন। ফলে কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ নিতে পারে না।
এ ছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিতে আসা সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদেরও বিশেষ কূটনৈতিক সুরক্ষা রয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বৈঠকে অংশগ্রহণের সময় এই সুরক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ভিডিও বার্তায় মামদানি ফেডারেল সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটিও বাস্তবে সম্ভব নয়।
তাদের মতে, এর জন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য হতে হবে এবং দুই হাজার দুই সালের ‘আমেরিকান সার্ভিস-মেম্বারস প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিল করতে হবে। এরপরও জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য বিদ্যমান আইনি সুরক্ষার বিষয়টি বড় বাধা হিসেবে থেকে যাবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ওঠা সব যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স