দেশের রুপালি পর্দার দর্শকদের জন্য এক চরম রোমাঞ্চকর উইকেন্ড নিয়ে আসছে স্টার সিনেপ্লেক্স। শুক্রবার (২৪ জুলাই) থেকে এক অভাবনীয় সিনেম্যাটিক মহোৎসবে ভাসতে যাচ্ছে দেশ।
ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন হাওয়া বইয়ে দিতে স্টার সিনেপ্লেক্সের পর্দাগুলোতে একই দিনে একযোগে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের ৪টি বিগ-বাজেট সিনেমা!
মেরুদণ্ড কাঁপানো অলৌকিক হরর, স্নায়ু-উত্তেজক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার, খুদে বিজ্ঞানীদের টাইম-ট্রাভেল অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে জেমস ক্যামেরনের প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বখ্যাত গ্র্যামিজয়ী পপ তারকার ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) লাইভ কনসার্ট ফিল্ম- কী নেই এই তালিকায়!
দর্শক চাহিদার সবটুকু রঙ মেলাতে এবং প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের আমেজ ফিরিয়ে আনতে শতভাগ প্রস্তুত এই ৪টি চলচ্চিত্র। বিনোদনের এই মহা-আয়োজন বড় পর্দায় উপভোগ করতে ইতোমধ্যেই দর্শকদের মাঝে শুরু হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা, যা এই সপ্তাহের বক্স অফিসে এক নতুন ঝড় তোলার স্পষ্ট আভাস দিচ্ছে।
এভিল ডেড বার্ন: বিশ্ববিখ্যাত হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘এভিল ডেড’-এর ষষ্ঠ কিস্তি এবং অত্যন্ত সফল ‘এভিল ডেড রাইজ’-এর সরাসরি সিক্যুয়েল এটি, যা পরিচালনা করেছেন সেবাস্তিয়ান ভানিচেক এবং প্রযোজনা করেছেন স্যাম রাইমি ও রব ট্যাপার্ট। সুহেইলা ইয়াকুব, হান্টার ডুহান ও লুসিয়ান বুকানন অভিনীত এই অলৌকিক থ্রিলারটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক তরুণীকে কেন্দ্র করে, যে তার স্বামীর অকাল মৃত্যুর পর মানসিক সান্ত্বনার খোঁজে এক প্রত্যন্ত নির্জন বাড়িতে তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় নেয়।কিন্তু তাদের এই পারিবারিক মিলনমেলা মুহূর্তেই এক চরম দুঃস্বপ্নে রূপ নেয় যখন ‘বুক অব দ্য ডেড’-এর অভিশপ্ত ডেমোনিক শক্তি জাগ্রত হয় এবং একে একে পরিবারের সবাই রক্তপিপাসু ‘ডেডাইটস’-এ পরিণত হতে শুরু করে, যা রক্তের বন্যা ও হাড়হিম করা স্পেশাল ইফেক্টস নিয়ে এই বছরের সবচেয়ে ভয়ংকর সিনেমা হতে যাচ্ছে।
প্যাসেঞ্জার: আন্দ্রে ওভ্রেডাল পরিচালিত এবং জ্যাকব সিপিও, লু লোবেল ও মেলিসা লিও অভিনীত এই সাইকোলজিক্যাল হরর ও সাসপেন্স থ্রিলারটি এক তরুণ কাপল ম্যাডি এবং টাইলারের গল্প বলে, যারা তাদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ত জীবন ছেড়ে ভ্যান লাইফ রোড ট্রিপ অ্যাডভেঞ্চারে বের হয়।যাত্রাপথে এক নির্জন মহাসড়কে তারা একটি অত্যন্ত ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এবং আহত এক আরোহীকে বাঁচানোর চেষ্টা করার পর থেকেই আসল আতঙ্ক শুরু হয়। তারা বুঝতে পারে তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে একা ফিরে আসেনি, বরং ‘প্যাসেঞ্জার’ নামক এক অতিপ্রাকৃত ডেমোনিক সত্তা তাদের পিছু নিয়েছে এবং গাড়ি কিংবা ভ্যানের ভেতর আটকা পড়া অবস্থায় এক অজানা আতঙ্কের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকার এই লড়াই দর্শকদের পুরোটা সময় সিটের কোনায় বসিয়ে রাখবে।
টাইম হোপার্স: দ্য সিল্ক রোড: শিশু-কিশোর এবং অ্যানিমেশনপ্রেমী পরিবারের জন্য নির্মিত স্টার-কিনেকর প্রোডাকশনের এই চমৎকার সায়েন্স ফিকশন ও অ্যানিমেটেড ফ্যামিলি অ্যাডভেঞ্চার চলচ্চিত্রটি ভবিষ্যতের ২০৫০ সালের গল্প নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সিনেমার কাহিনীতে দেখানো হয় ‘আকলি একাডেমি’র ৪ জন অত্যন্ত প্রতিভাবান শিশু শিক্ষার্থী ভুলবশত একটি উন্নত টাইম-ট্রাভেল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অতীতে প্রাচীন সিল্ক রোডের যুগে (৮২৫ খ্রিস্টাব্দের বাগদাদে) গিয়ে আছড়ে পড়ে। সেখানে ফাসিদ নামের এক দুষ্ট ও ক্ষ্যাপা রসায়নবিদ টাইম-ট্রাভেলের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে পৃথিবীর ইতিহাস থেকে বিজ্ঞানের সমস্ত আবিষ্কার মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করলে, আধুনিক বিজ্ঞানকে রক্ষা করতে এবং ইতিহাসে স্থান পাওয়া মহান বিজ্ঞানীদের বাঁচাতে এই চার খুদে ‘টাইম হোপার’ এক দুর্দান্ত অভিযানে নেমে পড়ে।
বিলি আইলিশ: হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট: দ্য ট্যুর – মিউজিক ও সিনেমা ইতিহাসের এক বৈপ্লবিক ফিউশন হিসেবে টাইটানিক ও অ্যাভাটার-খ্যাত কিংবদন্তি পরিচালক জেমস ক্যামেরন এবং গ্লোবাল পপ সেনসেশন বিলি আইলিশ যৌথভাবে এই বিশেষ থ্রিডি কনসার্ট চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন, যা পরিবেশন করছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স। অস্কার ও গ্র্যামি জয়ী বিলি আইলিশ এবং ফিনিয়াস ও’কনেলের এই সিনেমাটি মূলত বিশ্ব কাঁপানো ‘হিট মি হার্ড অ্যান্ড সফট’ ট্যুরের ম্যানচেস্টারের শো-কে কেন্দ্র করে নির্মিত। জেমস ক্যামেরনের অত্যাধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি থ্রিডি ক্যামেরা টেকনোলজির মাধ্যমে ধারণ করা এই সিনেমাটি দেখলে দর্শকদের মনে হবে তারা কনসার্টের ভিআইপি জোনে দাঁড়িয়ে সরাসরি লাইভ পারফর্ম্যান্স উপভোগ করছেন এবং ‘বার্ডস অব অ্যা ফেদার’ ও ‘লাঞ্চ’-এর মতো চার্টব্লাস্টার গানগুলো সিনেপ্লেক্সের ডলবি সাউন্ডে উপভোগ করা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে।
স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া বিভাগের প্রধান মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের দর্শকদের একদম নতুন এবং আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা উপহার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই দিনে রোমাঞ্চ, ভয়, বিজ্ঞান এবং মিউজিকের এই রকম দুর্দান্ত কম্বিনেশন স্টার সিনেপ্লেক্সে আগে কখনো আসেনি। আমরা আশা করি আগামীকাল ২৪ জুলাই থেকে দর্শক তাদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রেক্ষাগৃহে এক অবিশ্বাস্য সিনেম্যাটিক সপ্তাহ কাটাবেন।