ভারতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনের নতুন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও অনলাইনে খাবার ও পানীয় পাঠিয়ে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সমর্থকেরা অনলাইনে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুইগি ও জোম্যাটোর মাধ্যমে খাবার এবং পানীয় অর্ডার করছেন। পরে ডেলিভারি কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন, সেগুলো যেন যন্তর মন্তরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করে দেওয়া হয়।
অনলাইনভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি কর্মী প্রদীপ কুমার সিং ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, যন্তর মন্তর এখন এ ধরনের অর্ডারের নিয়মিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একটি অর্ডার আসে।এরপর গ্রাহক বলেন, “ভাই, এগুলো ওখানেই বিতরণ করে দিন। যাঁর প্রয়োজন, তাঁকে দিয়ে দিন।”’
প্রদীপ আরও জানান, আগের দিন তাঁর কাছে সমুচার একটি অর্ডার এসেছিল। তাঁকে বলা হয়েছিল, খাবারগুলো শুধু আন্দোলনস্থলে নিয়ে গিয়ে সবার মধ্যে বিলিয়ে দিতে। সেগুলো নিতে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি আসেননি।
শুধু ভারতের ভেতর থেকেই নয়, বিদেশ থেকেও আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার ও পানীয় পাঠানো হচ্ছে।
আরেক ডেলিভারি কর্মী মহেন্দ্র কুমার জানান, তিনি এক বিদেশি গ্রাহকের পাঠানো চায়ের অর্ডার নিয়ে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন।
মহেন্দ্র এএনআইকে বলেন, ‘এই অর্ডারটি ভারতের বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছে। আমাকে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত ভাইদের দিয়ে দিন।
তিনি আরও বলেন, কার পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে, এখানে যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাদের চা দিয়ে দিতে।
জোম্যাটো ও জেপ্টোর আরেক ডেলিভারি কর্মী এই উদ্যোগকে ‘শিক্ষার্থী সেবা’ বলে উল্লেখ করেন।
অজ্ঞাতপরিচয় প্রেরকের নির্দেশনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমাকে শুধু বলা হয়েছে, “সব বিতরণ করে দিন।” কে অর্ডার করেছেন, আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে সেখানে গিয়ে দিয়ে আসতে। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির আয়োজিত এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ এখন পর্যন্ত ১০টি মামলা করেছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন ঘটনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীর বিভিন্ন থানায় এসব মামলা করা হয়েছে।
এর মধ্যে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় চারটি, কনট প্লেস থানায় তিনটি এবং মন্দির মার্গ, বারাখাম্বা রোড ও কর্তব্য পথ থানায় একটি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র: এএনআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস