বিশ্ব রেকর্ডের এত কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর। বৃষ্টিবিঘ্নিত ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেই রেকর্ড গড়ে ফেলতেন তিনি।কিন্তু ৮৭ রানে আউট হয়ে ১৩ রানের আক্ষেপ নিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরতে হয়েছে শান্তকে।
সেঞ্চুরি পেলেই রিকি পন্টিং, ডেভিড ওয়ার্নার ও সুনীল গাভাস্কারদের সঙ্গে টানা তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়তেন শান্ত।টেস্ট জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে বিনয়ী শান্ত স্পষ্ট করে বলে দিলেন কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারদের পাশে তার নাম যায় না!
২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১২৪ রানের ইনিংস।এরপর গত বছর শ্রীলঙ্কার গল টেস্টের দুই ইনিংসেও একই কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন অপরাজিত ১২৫ রান।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে শান্ত খেলেছিলেন ১০১ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন সেই পথেই। বুধবার প্রথম সেশনে সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন তিনি। কিন্তু ৮৭ রানের মাথায় নোমান আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন। তাতেই বিশ্বরেকর্ডের অংশ হওয়া হয়নি শান্তর।
শান্তর বিশ্বরেকর্ড নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শান্তর সাফ জবাব, ‘ওই নামগুলো আমার সঙ্গে যায় না, আমাকে মাফ করে দেন। আমি যখন ব্যাটিং করি, তখন শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই ভাবি। ক্যাপ্টেনসি—টস করা, ফিল্ড প্লেসমেন্ট বা বোলিং পরিবর্তন—এসব মাঠের ভেতরের দায়িত্ব। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় আমার মূল কাজ রান করা। আমি এভাবেই চিন্তা করতে পছন্দ করি।’
দুই ইনিংসে দারুন ব্যাটিং করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শান্ত। নিজের ব্যাটিং নিয়ে বাংলাদেশর অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মনে হয় লাস্ট ইনিংসে ইনিংসটা আরও বড় হতে পারতো। যেভাবে ব্যাটিং করছিলাম, উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, স্পেশালি প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা। সেকেন্ড ইনিংসে আমি যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি করতে পেরেছি। ডে থ্রি বা ডে ফোরে উইকেট ডিফিকাল্ট থাকে। ওভারঅল ব্যাটিং ভালো হয়েছে, বাট ফার্স্ট ইনিংসটা আরও বড় হতে পারতো।’
‘পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে শান্ত ঘোষণা করেছিলেন সেঞ্চুরি করবেন। কথা রেখেছেন শান্ত। এই আত্মবিশ্বাস কি করে পেলেন এমন প্রশ্নে তার উত্তর, ‘প্রিপারেশন ভালো ছিল এবং নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল কীভাবে আমি দলের জন্য কন্ট্রিবিউট করতে পারি। আমি এখনও মনে করি, আমি আরও ভালো ব্যাটিং করতে পারব।’
ব্যাটিং করার সময় হাসান আলী বা শাহীনদের সাথে স্লেজিং বা মাইন্ড গেম খেলেছিলেন শান্ত। সেই বিষয়ে শান্ত বলেন, ‘এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একেকজনের স্ট্রেন্থ একেক রকম থাকে—কেউ জবাব দেয়, কেউ আবার দেয় না। পাঁচ দিন ধরে একটা ব্যাটল চলতে থাকে, আর আমি একজন ব্যাটসম্যান হিসেবে এই বিষয়গুলো উপভোগ করি। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।’