রাজধানীর পাড়া-মহল্লার বাজারে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডিমের দাম। এক মাসের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজনে দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা।বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা গত মাসেও ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর বনশ্রী, মালিবাগ, রামপুরা ও খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ডিমের বাড়তি দামে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ সংকট ও পোল্ট্রি ফিডের দাম বাড়ায় বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
রামপুরা বাজারে ডিম কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, মাছ-মাংসের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন ডিমও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।কয়েকদিন আগেও যে ডিম ১২০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটাই ১৫০ টাকা দিতে হচ্ছে।
বনশ্রীর একটি মুদি দোকানে ডিম কিনতে আসা গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত ডিম লাগে। কিন্তু এখন একসঙ্গে এক ডজন কিনতেও চিন্তা করতে হচ্ছে। প্রতিদিনই যেন দাম বাড়ছে।
মালিবাগ বাজারের পাইকারি ডিম বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কমেছে। ঢাকার বাইরের অনেক খামার থেকে ঠিকমতো ডিম আসছে না। আজ লাল ডিমের পাইকারী রেট ১৩০ টাকা। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আপাতত দাম কমার সম্ভাবনা কম।
খিলগাঁও বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, খামারিরা বলছেন পোল্ট্রি ফিডের দাম বেড়েছে। গাজীপুরের যেসব খামার থেকে আমরা ডিম আনি, তারাও বাড়তি দামে দিচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে বাড়তি দামের কারণে বিক্রি কিছুটা কমেছে বলেও জানান তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং উৎপাদন ব্যয় কমে না আসা পর্যন্ত ডিমের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা নেই। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যতালিকায়ও চাপ বাড়ছে।