মার্চ-এপ্রিল দুই মাস জাটকা রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ধরায় ২০৯ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯শ টাকা।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় ৬০৯টি অভিযান পরিচালনা করে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স।
আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করার জন্য ৩৬টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
দুই মাসের অভিযানে জব্দ করা হয় ৫ মেট্রিক টন জাটকা ও ৭৪২ কেজি অন্যান্য প্রজাতির মাছ। ২ হাজার মিটার ইলিশ মাছ ধরার জাল, ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ মিটার কারেন্টজাল এবং ৩২ হাজার ৮০০ মিটার অন্যান্য জাল জব্দ করা হয়।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, মতলব উত্তর, সদর ও হাইমচর উপজেলায় জেলা ও টাস্কফোর্সের অভিযানে জেলে আটকের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৩৭টি। মতলব উত্তর উপজেলায় জব্দ নৌকা নিলামে বিক্রি হয় ২৮ হাজার টাকায়। জব্দ জাল আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয় এবং মাছ স্থানীয় এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছে। এর ফলে জাতীয়ভাবে ইলিশের যে ৬ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়ক হবে। আর এর সুফল পাবে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা উপকূলীয় এলাকার জেলেরা।