ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কয়েক মৌসুমে নিয়মিত ভালো করার পুরস্কার পেয়েছেন অমিত হাসান। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন অমিত হাসান।টেস্ট দলে অমিতের ডাক পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘অমিত নিজেকে নিজেই নির্বাচিত করেছে।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকে ৮২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।৪৯ গড়ে অমিতের রান ৩ হাজার ৬৫০। ১১টি সেঞ্চুরি ছাড়াও আছে ১৭টি হাফ সেঞ্চুরি।চলমান বিসিএলেও সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি। ইস্ট জোনের হয়ে খেলতে নেমে খেলেছেন ১৬২ রানের ইনিংস।লংগার ভার্সনে তার সর্বোচ্চ রান ২১৩।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জাকের আলিকে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে ব্যাকআপ উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে অমিতকে সুযোগ দিয়েছে নির্বাচকরা। অমিতের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এমন ছিল যে, তাকে এই ফরম্যাটে সুযোগ দিতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাচকরা। এই কারণেই নির্বাচক প্যানেলের প্রধান হাবিবুল বাশার সুমন ও সদস্য নাঈম ইসলাম বলতে বাধ্য হলেন, ‘অমিত নিজেকে নিজে নির্বাচিত করেছে।’
অমিতকে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে সুযোগ দেওয়া নিয়ে হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘দেখুন অমিত দলে এসেছে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে। কারণ এখানে উইকেটকিপার লিটন আছেন, আরেকটা ব্যাকআপ তো টেস্টে এখন লাগে। সো ও ব্যাকআপ উইকেটকিপার অপশন হিসেবে এসেছে। সেকেন্ড থিং হচ্ছে হি ইজ এ কনসিস্টেন্ট পারফর্মার। আমরা একটা জিনিস শেয়ার করেছিলাম, কাউকে যখন আনব লম্বা রান দেওয়ার চিন্তা করেই আনব। অমিত প্রুভড হিমসেলফ। আমি বলব, ‘হি সিলেক্ট হিমসেলফ।’ ‘আমরা নির্বাচন করিনি, ও নিজে নিজেকে নির্বাচন করেছে।’
অমিতকে নিয়ে প্রধান নির্বাচক আরও বলেন, ‘ওর পারফরম্যান্স দেখেন, ধারাবাহিক পারফর্মার। কঠিন সময়ে রান করেছে, ভালো সময়ে রান করেছে। আমার মনে হয় তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। দেখা যাক কতদূর হয়।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে ‘এ’ দলের হয়ে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছিলেন অমিত। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিগব্যাশের একটি দলের সঙ্গে চারদিনের ম্যাচ খেলে সেখানে সফল হতে পারেননি অমিত। যদিও এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নাঈম ইসলাম, ‘ওর প্রতি বিশ্বাস ছিল দেখেই, ওকে নির্বাচন করা হয়েছে। হয়তো এক-দুইটা ট্যুরে রান করতে পারেনি, সবসময় যে প্লেয়ার রান করবে এমন না। হোপফুলি সে হায়ার লেভেলে ভালো ক্রিকেট খেলবে, এই জন্যই ওকে নেওয়া।’
এরপর প্রধান নির্বাচক বাশার আরও যোগ করে বলেন, ‘ফার্স্ট ক্লাস আর টেস্টের মধ্যে অবশ্যই ডিফারেন্স আছে। ও ফার্স্ট ক্লাসে অনেক দিন ভালো খেলছে, গত ৩-৪ বছর। সে প্রমাণিত প্লেয়ার। ওর জন্য মেসেজ থাকবে যে ম্যাচ খেললে যেকোনো লেভেলে অ্যাডজাস্ট করতে সময় লাগে। হাশিম আমলার কথা ধরলে, সে শুরুতে এত অ্যাগ্রেসিভ ছিল না, পরে অ্যাডাপ্ট করেছে। এই সময়টা নিজেকে দিতে হবে।’
পেস বোলিং আক্রমণে ইবাদত হোসেন, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা আছেন। স্পিন আক্রমণে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। স্কোয়াডে চার পেসার নিয়ে হাবিবুল বাশার বলেছেন, ‘চারজন পেসার আমরা সবসময়ই স্কোয়াডে রাখি। যদিও সাধারণত একাদশে তিনজন খেলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নির্ভর করবে উইকেট ও আবহাওয়ার ওপর। ফাস্ট বোলাররা ভালো করছে, তবে গরমের কারণে উইকেট ধীরে ধীরে ভাঙতে পারে। তখন স্পিনারদের গুরুত্ব বাড়বে। তাই দুই দিক বিবেচনায় রেখেই স্কোয়াডে ভারসাম্য রাখা হয়েছে।’
গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় হাসান মুরাদের। অভিষেক সিরিজে ৪ ইনিংসে মুরাদ নেন ১২ উইকেট। এমন ভালো পারফরম্যান্সের পরও টিম কম্বিনেশনের কারণে বাদ পড়তে হয়েছে মুরাদকে। তার বদলে এবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে নাঈম হাসানকে।
মুরাদের বদলে নাঈমের সুযোগ পাওয়াকে পুরোপুরি ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন হাবিবুল বাশার, ‘এটা পুরোপুরি ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত। হাসান মুরাদের পারফরম্যান্সে কোনো সমস্যা ছিল না—সে শেষ সিরিজে খুব ভালো বল করেছে। তবে পাকিস্তান দলে টপ অর্ডারে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি থাকায় আমরা নাঈম হাসানকে বেছে নিয়েছি। নাঈমও ফর্মের কারণে বাদ পড়েনি, সেও আগে ট্যাকটিক্যাল কারণেই বাইরে ছিল। তাই সিদ্ধান্তটা পুরোপুরি কৌশলগত।’