মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলা এবং এরপর তেহরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপে সংঘাত পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যের দামে, যা নিয়ে সতর্কতা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
এফএওর সাম্প্রতিক ‘ফুড প্রাইস ইনডেক্স’ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম গত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, যা খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দামও ক্রমাগত বাড়ছে।
বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।এই রুট দিয়ে বিশ্বে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল সরবরাহ হয়। এখানে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে খাদ্যবাজারেও।
এ অবস্থায় খাদ্য আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য সামনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নতুন করে হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে এ অঞ্চলটি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ওই হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ এ পর্যন্ত এক হাজার ৪০০ জনের মতো মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরান তাদের ভূমিতে হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।