ভারতের তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। অভিনয় ছেড়ে এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবীদ। সেই কারণেই এবার নিজের সম্পদের খতিয়ান প্রকাশ করলেন তিনি।
আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে দেওয়া হলফনামায় উঠে এসেছে তার আর্থিক অবস্থার চিত্র।
সেখান থেকে জানা যায়, বিজয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬০৩ কোটি রুপি। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মধ্যে বড় অংশই অস্থাবর- প্রায় ৪০৪ দশমিক ৫৮ কোটি রুপি। বাকি ১৯৮ দশমিক ৬২ কোটি রুপি স্থাবর সম্পদ। তার সম্পদের তালিকায় রয়েছে কোদাইকানালে কৃষিজমি আর চেন্নাইসহ বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিক ও আবাসিক সম্পত্তি।
নগদ অর্থ হিসেবে হাতে রয়েছে প্রায় দুই লাখ রুপি। পাশাপাশি ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে জমা রয়েছে ২১৩ কোটির বেশি। স্বর্ণ-রুপার অলংকারও আছে মোট ৮৮৩ গ্রাম, যার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ রুপি।
বিলাসবহুল গাড়ির তালিকাও কম দীর্ঘ নয়।
তার সংগ্রহে রয়েছে বিএমডব্লিউ, টয়োটার কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিজয়ের মোট আয় ছিল ১৮৪ দশমিক ৫৩ কোটি রুপি। তার আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে স্বনিযুক্ত কাজ, সুদের আয় এবং সম্পত্তি থেকে ভাড়া।
বিজয়ের স্ত্রী সংগীতাও আলাদাভাবে নিজের সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৭৬ কোটি রুপি।এর মধ্যে অস্থাবর সম্পদ ১৫ দশমিক ৫১ কোটি এবং স্থাবর সম্পদ ২৫ লাখ রুপি।
হলফনামায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে- বিজয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ব্যক্তিগত ঋণ দিয়েছেন। এর মধ্যে স্ত্রী সংগীতাকে দিয়েছেন ১২ দশমিক ৬ কোটি রুপি। এ ছাড়া তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর, মা শোভা শেখর, ছেলে জেসন সঞ্জয় এবং মেয়ে দিব্যা সাশাকেও ঋণ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক দল তামিলগা ভেত্রি কড়গমর সাধারণ সম্পাদক এন আনন্দকেও দিয়েছেন তিন কোটি রুপি। পাশাপাশি কিছু ট্রাস্ট ও ব্যক্তিকেও বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বিজয় উল্লেখ করেছেন, ১৯৮৯ ও ১৯৯১ সালে যথাক্রমে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেন। পরে বিএসসি পড়তে ভর্তি হলেও সেই পড়াশোনা শেষ করেননি।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথমবার নির্বাচনে লড়ছেন বিজয়। মনোনয়ন জমা দিয়ে শুরু করেছেন প্রচার।