ক্রিকেট মাঠের পাশেই ফুটবল স্টেডিয়াম। এরপর রয়েছে দুটি সুইমিংপুল, গোল্ডস জিম ও একটি আধুনিক ইয়োগা সেন্টার। পাশেই রয়েছে অ্যাথলেটিকস ট্র্যাক, হকি মাঠসহ আরও বেশ কয়েকটি খেলার মাঠ। পাশাপাশি আছে একাধিক ফুটসাল মাঠ, প্যাডেল টেনিস কোর্ট এবং প্রায় এক লাখ বর্গফুটের একটি ইনডোর কমপ্লেক্স।
সবমিলিয়ে এটি যেন একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া নগরী। প্রায় ৩০০ বিঘা জায়গাজুড়ে ১৭টি খেলার জন্য ২৪টি স্থাপনা নিয়ে গড়ে উঠছে এ প্রকল্প, যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেই সর্ববৃহৎ স্পোর্টস সিটি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন আধুনিক স্পোর্টস সিটি দেখে বিস্মিত বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
শনিবার (২৮ মার্চ) বসুন্ধরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নস ট্রফি।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু। সুবিশাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স দেখে বিস্মিত এ পরিচালক বাংলানিউজকে বলেন, ‘এক্সট্রাঅর্ডিনারি, ভাবাই যায় না যে প্রাইভেট সেক্টরে ফ্লাডলাইটসহ এমন সুন্দর একটি মাঠ তৈরি করা যায়। সারা বাংলাদেশে যদি ১০-২০টি এরকম গ্রাউন্ড থাকত, ক্রিকেটের মান পুরোপুরি অন্য লেভেলে চলে যেত।’
মিঠু বসুন্ধরা ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডের সঙ্গে তুলনা করলেন, ‘এই গ্রাউন্ড একেবারে আন্তর্জাতিক মানের সমকক্ষ।
উইকেটও খুব ভালো। পাশাপাশি, অ্যামেচার ক্রিকেটের এত জনপ্রিয়তা– ২৪টি টিম অংশ নিয়েছে। এটা সত্যিই দারুণ। আমাদের অবশ্যই কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত বসুন্ধরা এবং টি স্পোর্টসের প্রতি। এটা ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্যও একটি বার্তা।যারা সবসময় জাতীয় দলের লেভেলে পৌঁছাতে পারবে না, তাদের জন্যও সুযোগ আছে।’
ভবিষ্যতে কোনো সহযোগিতা চাইলে বিসিবি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানালেন ক্রিকেট বোর্ডের এই পরিচালক, ‘বিসিবি তাদের নিজস্ব কাঠামোতেই কাজ করছে, এর বাইরে বিসিবির কিছু করার সুযোগও কম। তবে ব্যাংকারদের অংশগ্রহণ, অ্যামেচার ক্রিকেট কিংবা বিভিন্ন ছোট টুর্নামেন্ট– এসবও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোর মাধ্যমেই অংশগ্রহণ বাড়ে, আর ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাও ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ ক্রিকেটের উন্নতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। প্রয়োজন হলে বিসিবিও যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।’
এত সুন্দর মাঠ থাকার পরও রংপুর রাইডার্স নিজেদের মাঠে ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। যদিও ক্রিকেট মাঠে অনুশীলন করেন রংপুরের ক্রিকেটাররা। ভবিষ্যতে বিপিএল সম্ভব কি না– এমন প্রশ্নই রাখা হয়েছিল মিঠুর কাছে। তার উত্তর, ‘হ্যাঁ, কেন নয়। যদি ধারণক্ষমতা থাকে, দর্শকদের বসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়, সেক্ষেত্রে বিপিএলের ম্যাচ হতেই পারে।’